নিজস্ব প্রতিবেদক::
আবারও ঢাকা ও সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শিক্ষার্থী ও পুলিশসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বারবার তারা মারমুখি অবস্থানে চলে আসায় এ ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুধীজন। তারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে উগ্রতা বাড়াকে দায়ি মনে করছেন। এখন পেশী শক্তি দেখাতে গিয়ে এই দুই কলেজের শিক্ষার্থীরা বারবার সংঘর্ষে জড়িয়ে সুনাম নষ্ট করছে।
জানা গেছে মঙ্গলবার বেলা ১১টার পর রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় ওই সংঘর্ষের শুরু হয়। এক পর্যায়ে সড়কে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষার্থীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ।
প্রক্ষ্যদর্শীরা জানান, দুই কলেজের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পর দুপুরেও পুরো এলাকা থমথমে ছিল। বিপুল সংখ্যক আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। তবে এর মধ্যেই উভয় পক্ষের মধ্যেই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ফলে এলাকার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
এবার কি কারণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি ষ্পষ্ট করতে পারেনি পুলিশও। স্থানীয়রা জানান, দুপুর ১২টার দিকে দুই পক্ষই ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায় শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিপেটা করে ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয়।
শিক্ষার্থীদের দাবি, সোমবার ধানমন্ডিতে ঢাকা কলেজের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন যুবক। এরমধ্যে একজন ঢাকা সিটি কলেজের শিক্ষার্থীও ছিলেন। এমন অভিযোগ এনে মঙ্গলবার ঢাকা কলেজের ছাত্ররা সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা শুরু করেন। আহত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলেও জানান বিক্ষুব্ধরা।
এদিকে বারবার দুটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ানোয় শিক্ষাবিদ ও সুধীজনরা নানা মত দিয়েছেন। বিশেষ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর ক্ষমতা দেখাতে গিয়ে ছাত্ররা তুচ্ছ বিষয় নিয়েও তুলকালাম করছে। শুরু থেকে সরকার শিক্ষক পেটানো, মব, গণহারে শিক্ষার্থী কর্তৃক বিভিন্ন পেশাজীবী লাঞ্চিতের ঘটনায় বিচারের আওতায় না আনায়, তারা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠছে বলে মনে করছেন তারা।
