নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (জানাক) ইফতারে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিলেট জেলা শাখার আহবায়ক মো. আক্তার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
২৩শে মার্চ, রোববার ভোরে তাকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে সিলেট শাহপরান থানা-পুলিশ। দুপুরে তাকে আদালতে তোলা হলে শুনানী না হওয়ায় কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
এদিকে বিকেলে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিজ্ঞ বিচারক ছগির আহমদ আক্তার হোসেনের জামিন মঞ্জুর করেন।
তার বিরুদ্ধে মাহবুবুর রহমান শান্ত নামের এক আহত মামলা দায়ের করলে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় বৈছা সিলেট জেলা কমিটির আহ্বায়ক মো. আক্তার হোসেনকে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আহ্বায়ক আক্তারকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করে জানান, জালালাবাদ থানাধীন আউসা গ্রামের আব্দুল মনিরের ছেলে। তাকে গতকাল ইফতার মাহফিলে হামলা ও মারধরের ঘটনায় দায়েরকৃত একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সাইফুল ইসলাম বলেন, গতকাল শনিবার জাতীয় নাগরিক কমিটির ইফতারে দুপক্ষের মারামারিতে মাহবুবুর রহমান শান্ত নামের এক যুবক আহত হয়েছিলেন। এ ঘটনায় তিনি শাহপরান থানায় মামলা করেন। এই মামলাতেই সমন্বয়ক আক্তার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় আক্তারকে গ্রেপ্তার দেখানোর পর সিলেটের আদালতে তোলা হয়েছিল। শুনানী না হওয়ায় আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।
এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ও সিলেট জেলা বারের সদস্য অ্যাডভোকেট ওবায়দুর রহমান ফাহমি বলেন, দুপুরে একটি মামলায় গ্রেফতার হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সিলেট জেলার আহবায়ক আক্তার হোসেনকে সিলেট আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি না হওয়ায় আসামিকে আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়। বিকালে শুনানিকালে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিজ্ঞ বিচারক আসামী আক্তারের জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন মঞ্জুর হওয়ায় আসামীর আর মুক্তি পেতে কোন বাধা নেই।
উল্লেখ্য ইফতার মাহফিলের ভিডিও ধারণের সময় এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের কয়েকজন নেতা সাংবাদিকদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করেন।
সাংবাদিকরা প্রতিবাদ করলে তাদেরকে অশ্লীল কথাবার্তা বলেন সমন্বয়করা। অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে সাংবাদিকরা ইফতার মাহফিলে অংশ না নিয়েই প্রতিবাদ করে চলে আসেন।
গত বছরের ডিসেম্বরে ২৭৩ সদস্যের সিলেট জেলার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এই কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছিল আক্তার হোসেনকে।
