সরোস ফাউন্ডেশনের তহবিল নিয়ে ভারতে তদন্ত: বাংলাদেশে বিপুল অর্থায়নের কারণে উদ্বেগ

সরোস ফাউন্ডেশনের তহবিল নিয়ে ভারতে তদন্ত: বাংলাদেশে বিপুল অর্থায়নের কারণে উদ্বেগ
শেয়ার করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক
ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) মঙ্গলবার বেঙ্গালুরুতে মার্কিন ধনকুবের জর্জ সরোস-প্রতিষ্ঠিত ‘ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনস’ (ওএসএফ) এবং এর বিনিয়োগ শাখা ‘ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ (ইডিএফ)-এর বিরুদ্ধে বিদেশি মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন (ফেমা) লঙ্ঘনের অভিযোগে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে।
এই তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, সরোসের এই দুটি সংস্থা গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রায় ৩৫০ কোটি রুপির বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) ভারতে পাঠিয়েছে, যার মধ্যে ২৫ কোটি রুপি বিভিন্ন সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠান ফেমা নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ।
ইডি সূত্র জানিয়েছে, ২০১৬ সালে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওএসএফ-কে “প্রাইওর রেফারেন্স ক্যাটাগরি”-তে অন্তর্ভুক্ত করে, যার ফলে ভারতে এনজিওদের জন্য এর থেকে “অনিয়ন্ত্রিত” অনুদান গ্রহণ নিষিদ্ধ হয়। এই বিধিনিষেধ এড়াতে ওএসএফ ভারতে সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান গঠন করে এবং এফডিআই ও পরামর্শ ফি’র আকারে তহবিল আনার ব্যবস্থা করে, যা এনজিওদের কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি ফেমা আইনের “স্পষ্ট লঙ্ঘন” বলে সূত্র দাবি করেছে।
জর্জ সরোসের ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনস বিশ্বের বৃহত্তম বেসরকারি তহবিল সংস্থাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত, যা মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছ সরকার গঠনে সহায়তার জন্য কাজ করে। তবে, বিশ্বজুড়ে এর তহবিল প্রায়ই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। অনেক দেশে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো সরোসের তহবিলকে “রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি” হিসেবে দেখে। উদাহরণস্বরূপ, ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি সরোসের বিরুদ্ধে দেশের স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ তুলেছে, বিশেষ করে আদানি-হিন্ডেনবার্গ বিতর্কের সময় তার বক্তব্যের পর। এছাড়া, হাঙ্গেরি ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোতে সরোসের সংস্থার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কারণ তাদের মতে এটি “বিদেশি হস্তক্ষেপ” ও “রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা” সৃষ্টির হাতিয়ার।

সরোস-ইউনূস বৈঠক: মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ডের পর বাংলাদেশে সফল মিশন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরোসের তহবিল প্রায়ই নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা বা সরকারবিরোধী আন্দোলনকে উৎসাহিত করতে ব্যবহৃত হয় বলে অভিযোগ ওঠে, যা স্থানীয় সরকারগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ। এ কারণে অনেক দেশ এই তহবিলের উৎস ও ব্যবহার নিয়ে সতর্ক থাকে।
ভারতে সরোসের তহবিল নিয়ে যখন কঠোর তদন্ত চলছে, তখন বাংলাদেশে এই ফাউন্ডেশনের উল্লেখযোগ্য অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ওএসএফ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ভারতে এর মোট ব্যয় ছিল মাত্র ৪,০৬,০০০ মার্কিন ডলার। তবে, বাংলাদেশে এর তহবিলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বলে জানা যায়।
ইউএসএআইডি ও সরোস ফাউন্ডেশনের বিপুল অর্থায়ন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে
বাংলাদেশে সরোস ফাউন্ডেশনের তহবিল মূলত স্থানীয় এনজিও, মানবাধিকার সংস্থা ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়। তবে, ভারতের তদন্তের আলোকে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, এই তহবিল কি বাংলাদেশে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে? বিশেষ করে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলী বিবেচনায় এই তহবিলের স্বচ্ছতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ভারতে সরোসের তহবিল নিয়ে চলমান তদন্ত বিশ্বব্যাপী এই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের নেতিবাচক ধারণাকে আরও জোরালো করেছে। একই সঙ্গে, বাংলাদেশে এর বিপুল অর্থায়ন দেশটির অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশেরও উচিত এই তহবিলের উৎস ও ব্যবহার নিয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখা।
Visited 127 times, 1 visit(s) today