বিস্তর জল ঘোলার পর টিকা ক্রয়ের সিদ্ধান্ত: দেশজুড়ে শিশু মৃত্যুর দায় কার- ইউনূস নাকি তারেক সরকারের?

বিস্তর জল ঘোলার পর টিকা ক্রয়ের সিদ্ধান্ত: দেশজুড়ে শিশু মৃত্যুর দায় কার- ইউনূস নাকি তারেক সরকারের?
শেয়ার করুন

❐ বিশেষ প্রতিবেদক


বিস্তর জল ঘোলা এবং ব্যঅপক শিশু মৃত্যুর পর অবশেষে টিকা ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিলো বিএনপি সরকার।

হামসহ ৬টি রোগের টিকা কিনতে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফকে ৬০৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন বিতর্কিত মন্তব্য করে নিন্দার শিকার হওয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

আজ ৩০শে মার্চ, সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সাথে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, খুব শিগগিরই ৬০৪ কোটি টাকার হামসহ ৬ রোগের টিকা আনার জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে, চেষ্টা চলছে দ্রুত আনার জন্য। এরই মধ্যে ইউনিসেফকে টিকা আনার জন্য টাকা দেওয়া হয়েছে, এপ্রিল এর প্রথম সপ্তাহের মধ্যে টিকা চলে আসবে বলে আশা করছি।

তিনি আরও বলেন, টিকা এলে ভ্যাকসিন কর্মসূচি বাড়ানো হবে। আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হামসহ শিশুরোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারিভাবে আরও ২০টি ভেন্টিলেশন প্রস্তুত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানোর পর ড. ইউনূসের সরকার এবং বর্তমানে তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায়। আওয়ামী লীগ আমলে টিকা কার্যক্রম সচল থাকলেও, সরকার পতনের পর এলোমেলো হয়ে যায় স্বাস্থ্যখাত। টিকাদানে বিশ্বব্যাপী রোলমডেল বাংলাদেশ। অথচ ইউনূস সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের সময় সেই ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলাফল সারাদেশে সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হাজার হাজার শিশু, মারা গেছে প্রায় ১শ।

ইউনূস সরকারের বিদায়ের পর তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায়। কিন্তু অব্যবস্থাপনা, টিকা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনার পুরো দায় চাপানো হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর! স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল দাবি করলেন, বিগত ৮ বছর টিকা দেওয়া হয়নি বলে এত শিশু মারা গেছে!

তার এমন মন্তব্যে দেশজুড়ে চলছে তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার। এমনকি আওয়ামী লীগ সরকারের ঘোরতর সমালোচকরা পর্যন্ত মুখ খুলেছেন, বলছেন- শেখ হাসিনার সরকারের সকল সমালোচনা একপাশে, কিন্তু টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে কোনো সমালোচনার সুযোগ নেই। ইপিআই কার্যক্রমকে আওয়ামী লীগ সরকার ঈর্ষণীয় সাফল্যের পর্যায়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা এ জন্য শেখ হাসিনাকে সম্মাননা দিয়েছে (ভ্যাকসিন হিরো-সহ), টিকাদানের সাফল্যে বিশ্বের শীর্ষ ৬টি দেশের একটি ছিল বাংলাদেশ।

সেই শীর্ষ অবস্থান থেকে একেবারে তলানিতে এসে পড়েছে এখন বাংলাদেশ।

সমালোচকদের প্রশ্ন, এত যে শিশু মারা গেল সরকারি গাফিলতিতে, এর দায় কে নেবে? ইপিআই-এর ফাইভ সেক্টর প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া ইউনূস সরকার নাকি ক্ষমতাসীন তারেক রহমানের সরকার?

আজ সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ের সময় টিকাদান সংক্রান্ত নিজের মন্তব্যের ভুল স্বীকার না করে আবারও দাবি করলেন ২০১৮ সালের পর দেশে হামের বিষযে কোনো ক্যাম্পেইন করা হয়নি। সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে তার সরকার।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতন পরবর্তী অবস্থা নিয়ে ইউনিসেফ-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র।

ইউনিসেফ বলছে, শিশুদের টিকাদানের হার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বিপুল সাফল্য ছিল। কিন্তু বর্তমানে প্রায় ৫ লাখ শিশুর অবস্থা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ইউনিসেফের প্রতিবেদন বলছে, দেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও ৪ লাখের মতো শিশু ঠিকমতো সব টিকা পায়নি এবং ৭০ হাজার (১.৫ শতাংশ) শিশু একেবারেই টিকা পায়নি।

তারা বলছে, শহর অঞ্চলগুলোতে টিকা না পাওয়ার হার বেশি- মাত্র ৭৯ শতাংশ পুরোপুরি টিকা পেয়েছে, ২.৪ শতাংশ এক ডোজ টিকাও পায়নি এবং ৯.৮ শতাংশ টিকার সব ডোজ ঠিকমতো পায়নি; সেই তুলনায় গ্রামাঞ্চলগুলোতে ৮৫ শতাংশ শিশু টিকার সব ডোজ পেয়েছে।

১৯৭৯ সালের ৭ই এপ্রিল বাংলাদেশে এক বছরের কম বয়সী সকল শিশুদের ছয়টি সংক্রামক রোগের টিকা দেওয়ার মাধ্যমে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০০৯ সাল থেকে ৮টি সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করে সরকার। এরপরও বিভিন্ন সময় রোগভেদে টিকার আওতা বাড়ানো হয়েছে।

Visited 8 times, 1 visit(s) today