সেনা-পুলিশের সামনেই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সমাবেশ, সাংবাদিক আহত

সেনা-পুলিশের সামনেই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সমাবেশ, সাংবাদিক আহত
শেয়ার করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই পল্টন মোড়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীর সমাবেশ শুরু করে। এরপর পল্টন মোড় থেকে বিজয়নগর মোড়ে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ পিছনে থেকে টিয়ারগ্যাস ছুড়লে ছত্রভঙ্গ করে যায়।

এ ঘটনায় দৈনিক কালবেলার সাংবাদিক সুশোভন অর্ক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার বায়তুল মোকাররমে হিযবুত আগাম ঘোষণা দিয়েই ‘মার্চ ফর খিলাফত’ কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছিল।

এদিকে পুলিশ সদর দপ্তর আবারও সতর্ক বার্তা দিয়েছে হিযবুতকে নিয়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী এক সাংবাদিক জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাশের বায়তুল মোকাররমের গেটে থাকলেও পল্টন মোড়ে হিযবুত তাহরীর সমাবেশ শুরু করেছে।

এর আগে হিযবুত কর্মসূচি পালন করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বৃহস্পতিবার বিকালেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পরে মধ্যরাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে নিষিদ্ধ সংগঠনটির তিন সদস্যকে গ্রেপ্তারের কথা জানায ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। তাদের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করা হয়েছে।

“হিযবুত তাহরীর একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন। আইন অনুযায়ী এদের সকল কার্যক্রম শাস্তিযোগ্য অপরাধ,” বলা হয়েছে পুলিশের বার্তায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া বার্তার পর জুমার নামাজের দুই ঘণ্টা আগে থেকেই বায়তুল মোকাররমের ফটকগুলোতে অবস্থান নেন র‌্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

নামাজ পড়তে যারা ব্যাগ হাতে করে আসছেন তাদের তল্লাশি করছেন পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্যরা। কারও কারও কাছে পরিচয় ও আরও কিছু তথ্য জানতে চাইছেন তারা।

র‌্যাব-পুলিশের সদস্যদের হাতে গ্যাসগান, শটগানসহ দাঙ্গা দমনের সরঞ্জাম দেখা গেছে। আশপাশে পুলিশের সাঁজোয়া যান এবং জলকামানও রাখা হয়েছে।

গত বছরের ৫ই আগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের পর নতুন করে তৎপর হয়ে উঠেছে উগ্রবাদী জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর, রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ইসলামি খিলাফত প্রতিষ্ঠা এবং শরিয়া বাস্তবায়ন যাদের মূল লক্ষ্য।

জঙ্গি সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক আন্দোলনে তারা সক্রিয় ছিলেন, নিজেদের পরিচয় গোপন করে ছাত্র শিবিরের মত, সাধারণ ছাত্রদের সাথে মিশে আন্দোলনে সহিংসতা চালিয়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরে গোপনে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসা সংগঠনটি এখন অনেকটা প্রকাশ্যে তাদের কাজ চালাচ্ছে। শুক্রবার তারা বায়তুল মোকারমে কর্মসূচি ঘোষণা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার লাগিয়েছে; বিভিন্ন জায়গায় লিফলেটও বিলি করেছে।

Visited 56 times, 1 visit(s) today