ইফতারের অবশিষ্ট দুই কোয়া কমলা খাওয়ায় শিশু শিক্ষার্থীকে মাদ্রাসা শিক্ষকের পৈশাচিক নির্যাতন

ইফতারের অবশিষ্ট দুই কোয়া কমলা খাওয়ায় শিশু শিক্ষার্থীকে মাদ্রাসা শিক্ষকের পৈশাচিক নির্যাতন
শেয়ার করুন
জেলা প্রতিনিধি

ইফতারের পর থেকে যাওয়া মাত্র দুই কোয়া কমলা খাওয়ায় হাত-পা বেঁধে এক এতিম ছাত্রকে পৈশাচিকভাবে পিটিয়েছেন মাদ্রাসা শিক্ষক। মর্মান্তিক এই ঘটনা জানাজানির পর পালিয়ে গেছেন সেই নির্দয় শিক্ষক।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মথুরাপুর আদর্শ ইয়াতিমখানায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনকারী শিক্ষক হলেন হাফেজ ইমরান হাওলাদার।

গুরুতর আহত ওই শিক্ষার্থীকে বুধবার দুপুরে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নির্যাতিত ছাত্রের সহপাঠীরা জানায়, তার শরীরে লাঠি দিয়ে পেটানোর কারণে লাল লাল দাগ পড়ে গেছে।

আহত শিক্ষার্থীর ছবি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। মাত্র দুই কোয়া কমলার জন্য এভাবে একটি শিশুকে নির্দয়ভাবে নির্যাতন করতে পারে যিনি, তিনি কীভাবে শিক্ষকতা করতে পারেন, এমন প্রশ্ন উঠেছে। সেই সাথে রোজা-রমজানের দিনে কীভাবে এমন নির্মমতা সম্ভব- অবাক হয়েছেন নেটিজেনরা।

নির্দয়ভাবে প্রহারের ঘটনাটি নিশ্চিত করেন ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আব্দল্লাহ আল মামুন।

শিক্ষার্থীর স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সকালে এতিমখানার ভেতরে এই নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অবস্থা বেগতিক বুঝে জনরোষে পড়তে পারেন ভেবে এতিমখানা ছেড়ে পালিয়ে যান ইমরান হাওলাদার।

এতিমখানার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. আলাউদ্দিন বলেন, “সোমবার এক ব্যক্তি এতিমখানায় শিশু-কিশোরদের জন্য ইফতারের আয়োজন করেছিলেনন। ইফতার শেষে কয়েকটি কমলা রয়ে যায়। ইফতারের পর সেখান থেকে ওই কিশোর ছাত্রটি দুই কোয়া কমলা খেয়ে ফেলে।”

পোস্টে দুইটা কমলার কথা বলা হলেও দুই কোষ কমলা খেয়েছিল বলে জানা যায়

তিনি আরও বলেন, কমলা খাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে বুধবার সকালে শিক্ষক হাফেজ ইমরান হাওলাদার ওই ছাত্রকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করেন। মারধরে বাচ্চা ছেলেটি গুরুতর আহত হয়। এতিমখানা পরিচালনা কমিটি বিষয়টি জানার পর পর বৈঠকে বসে। তার আগেই শিক্ষক ইমরান পালিয়ে যান।”

এ ঘটনায় শিক্ষক ইমরানকে সাময়িকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে জানান মো. আলাউদ্দিন।

সভাপতি বলেন, আহত ওই ছাত্রকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার স্বজনরা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আব্দল্লাহ আল মামুন বলেন, এই শিশু নির্যাতনের ব্যাপারে তদন্ত শুরু হয়েছে।

এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসী এতিমখানার সামনে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা ওই শিক্ষকের বিচারের দাবি জানান। সেই সাথে শিক্ষককে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার অভিযোগ তুলেছেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

 

Visited 180 times, 1 visit(s) today