নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই-আগস্টের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সূচনাই হয়েছিল কোটাবিরোধিতা নিয়ে। ‘কোটা না মেধা, মেধা-মেধা’- স্লোগানে উত্তাল হয়েছিল রাজপথ। আন্দোলনকারী সরকারবিরোধী পক্ষের মূল জ্বালা-যন্ত্রণা ছিল সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য সংরক্ষিত কোটা। তারা সেই কোটার বিরোধিতা করেছিল রাজাকার বলে নিজেদের পরিচয় দিয়ে। গর্বিত ঔদ্ধত্য নিয়ে স্লোগান দিয়েছিল- ‘তুমি কে, আমি কে, রাজাকার-রাজাকার’।
একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিজেকে রাজাকার পরিচয় দিতে কেন গর্ববোধ করছে- এর উত্তর মিলেছে আগস্টের রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর। তখন স্পষ্ট হয়ে ওঠে, পুরো আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল স্বাধীনতাবিরোধী পক্ষ, একাত্তরের পরাজিত শক্তি- জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির এবং দেশবিরোধী জঙ্গিরা।
মূলত আওয়ামী লীগ সরকারকে হটাতেই কোটাবিরোধী আন্দোলনের বাহানা দিয়ে শিক্ষার্থীদের রাজপথে নামানো হয়েছিল। যার ফলশ্রুতিতে দেশজুড়ে মেটিক্যুলাসলি ডিজাইনড প্ল্যানে শেখ হাসিনাকে রক্তপাত এড়াতে পিছু হটতে হয়। তিনি দেশত্যাগ করেন।
এররপরই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী-সমন্বয়কদের সামনে রেখে গঠিত হলো ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। আন্দোলনকারীদের একাংশ সেই সরকারের ছত্রছায়ার নিচে ঢুকে আদায় করে নিলেন রাষ্ট্রীয় সকল সুযোগ-সুবিধা।
তবে যে কোটা নিয়ে আপত্তি থেকে জুলাই থেকেই রাজপথ উত্তপ্ত; অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হওয়ার পর নতুন নতুন কোটা যুক্ত হলো। শুধু কোটা নয়, এককালীন অর্থ সাহায্য, মাসিক ভাতা, চাকরি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে কোটা, চাকরিতে অগ্রাধিকার এমনকি হাসপাতালে খাবারের বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে আন্দোলনকারীদের জন্য। সারাদেশের সব রোগীর জন্য হাসপাতালে খাবারের দৈনিক বরাদ্দ একরকম, আবার জুলাই-আগস্টের সরকারবিরোধী আন্দোলনে গিয়ে হতাহতদের জন্য সেই বরাদ্দ আরও বেশি বাড়ানো হলো।

কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে কোটা বহালের খবরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল আলোচনা। সবাই প্রশ্ন তুলছেন, কোটাই যদি ফিরে আসবে, তবে আন্দোলন করা হয়েছিল কেন? আসল সমস্যা কি তবে মুক্তিযোদ্ধা কোটায়? প্রশ্নটা কি খুবই অমূলক?
২৩ বছরের শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেতে দীর্ঘ সংগ্রামের পর বাংলাদেশকে স্বাধীনত করতে যারা পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে অসম সাহসে অস্ত্র হাতে লড়েছিলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাদের জন্য সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করে সরকার। স্বাধীনতার পর শুধু বীর মুক্তিযোদ্ধারা এই কোটা সুবিধা পেতেন। স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় থাকাকালে নিপীড়িত ও বঞ্চিত হন এই মুক্তিসংগ্রামীদের পরিবার।
মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ ২১ বছর পর ক্ষমতায় গিয়ে ১৯৯৬ সালে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ও ২০১১ সালে তাদের নাতি-নাতনিদেরও এই কোটার সুবিধায় আনে। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরুর পর ২০১৮ সালে সব কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে গেলে গত বছরের জুন মাসে হাইকোর্ট কোটা পুনর্বহাল করে। তখন নতুন করে আন্দোলন শুরু হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র (বৈছা) আন্দোলনের ব্যানারে।
সেই আন্দোলনে সহিংসতায় বিদেশি ইন্ধনে সংঘাত উস্কে দেওয়া হয়। নিহত হন মানুষ; মেটিক্যুলাসলি ডিজাইনড প্ল্যান মোতাবেক কোটাবিরোধী আন্দোলনকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় সরকারবিরোধী আন্দোলনে। শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। অন্তর্বর্তী সরকার এসে জুলাই-আগস্টের নিহতদের ‘জুলাইযোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে তাদেরকে ভাতার আওতায় এনেছে। চাকরিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে কোটা বরাদ্দ রেখেছে।

তবে ভাঁওতাবাজির একটা দৃষ্টান্তও দেখা গেছে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কোটাও রাখা হয়েছে। তবে শুধুমাত্র সন্তানদের ক্ষেত্রে। মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স অনুসারে, এখন তাদের সন্তানরাও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বয়সে নেই। মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনিদের কেউ কেউ ভর্তির উপযুক্ত থাকলেও তাদের জন্য কোটা সুবিধা থাকছে না। এটা তাই স্রেফ একটা ভাঁওতাবাজি।
আন্দোলনে হতাহতদেতর জন্য ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা
গত ৯ই ফেব্রুয়ারি ড. ইউনূস জুলাই-আগস্টে দেশে সহিংসতা করত গিয়ে আহত-নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সময়ই মাসিক ভাতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে ২৭শে ফেব্রুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে। বৈঠকের পর ড. ইউনূস প্রেস সচিব জানান, মার্চ মাস থেকেই ভাতা চালু হচ্ছে। নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে এককালীন ৩০ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। প্রতিটি পরিবার পাশাপাশি মাসে ২০ হাজার টাকা করে ভাতাও পাবে।
নিহতের সংখ্যা আন্দোলনকারীরা প্রায়শ হাজার হাজার উল্লেখ করলেও গেজেটভুক্ত হয়েছে ৮৩৪ জন। আহতের সংখ্যা ২২ হাজারের বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। এদের আবার তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করে চিকিৎসাসহ আর্থিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। বেশি আহতরা এ ক্যাটাগরিতে, মাঝারি আহতরা বি এবং সাধারণ আহতরা সি ক্যাটাগরিতে।
এ ক্যাটাগরির ৪৯৩ জন এককালীন ৫ লাখ টাকার সাথে মাসিক ২০ হাজার টাকা করে ভাতা পাবে। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে আজীবন বিনামুল্যে চিকিৎসা সুবিধাও পাবে তারা। বি ক্যাটগারির ৯০৮ জন এককালীন ৩ লাখ টাকা এবং মাসিক ১৫ হাজার টাকা করে ভাতা পাবে। সি ক্যাটাগরির ১০ হাজার ৬৪৮ জন এককালীন ১ লাখ টাকা এবং মাসিক ১০ হাজার টাকা ভাতা পাবে।
এখানে, উল্লেখ করা প্রয়োজন, বীর মুক্তিযোদ্ধারাও রাষ্ট্রের কাছ থেকে মাসিক ভাতা পান। এই ভাতার পরিমাণ অতি নগণ্য ছিল একসময়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়ে ভাতার পরিমাণ বাড়ায়। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় যাওয়ার পর আরেক দফা বাড়ানো হয়। বর্তমানে ৬ হাজার ১৭৪ জন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে পঙ্গুত্বের ধরন ভেদে ২৫ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া, ৫ হাজার ৮১৬ শহিদ পরিবারকে মাসিক ৩০ হাজার, মৃত যুদ্ধাহত পরিবারকে মাসিক ২৫ হাজার, ৭ বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ পরিবারকে মাসিক ৩৫ হাজার, বীর উত্তম খেতাবধারীরা মাসিক ২৫ হাজার, বীর বিক্রম খেতাবধারীরা মাসিক ২০ হাজার ও বীর প্রতীক খেতাবধারীরা মাসিক ১৫ হাজার টাকা হারে ভাতা পাচ্ছেন।

জুলাই আন্দোলনকারীদের চাকরিতে অগ্রাধিকার
জুলাইয়ের নিহতদের জুলাই শহীদ এবং আহতদের জুলাইযোদ্ধা নাম দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। নিহতদের পরিবারের সক্ষম সদস্যরা সরকারি ও আধা-সরকারি চাকরিতে অগ্রাধিকার পাবে বলে ২৭শে ফেব্রুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানান।
তিনি বলেন, বি ক্যাটাগরিতে যারা রয়েছেন, তাদের চিকিৎসার পর কর্মসহায়ক প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি-আধা সরকারি কর্মসংস্থান দেওয়া হবে তাদের। সি ক্যাটাগরিতে থাকা আহতদের জন্য একই রকমভাবে পুনর্বাসনের সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানান প্রেস সচিব।
আন্দোলন চলাকালে সরকারি চাকিরতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৫ শতাংশে নামিয়ে এনে রায় দিয়েছিল আপিল বিভাগ। তবে সেই কোটার সুবিধা শুধু সন্তানরাই পাবেন বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। এখনও সেই রায় বহাল রয়েছে। তবে এটাও ভাঁওতাবাজি। কারণ, মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের চাকরিতে ঢোকার বয়স পেরিয়ে গেছে অনেক আগেই। নাতি-নাতনিদের ক্ষেত্রে বয়স থাকতে পারে। কিন্তু তাদের জন্য কোটা সুবিধা নেই। ফলে এই কোটা কাজীর গরুর মত কাগজে-কলমে থাকলেও প্রকৃতপক্ষে পুরোপুরি নিষ্ফল।
মেধা যাচাইয়ের পর সর্বশেষ ধাপ ছিল কোটা। সেই পর্যন্ত যদি কাউকে পাওয়া না যায়, তবে সম্পূর্ণ নিয়োগ মেধা তালিকা নেওয়া হবে। এই রীতি আগেও যেমন ছিল, এখনও আছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিতেও কোটা
জুলাইয়ের হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের স্কুলে ভর্তিতে কোটার সুবিধা রেখে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে গত ২০শে ফেব্রুয়ারি অফিস আদেশ জারি হয়। রোববার মাউশির ওয়েবসাইটে সেই আদেশ প্রকাশিত হয়েছে। মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তিতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য এতদিন যে ৫ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত থাকত, তাতে জুলাইয়ের হতাহতদের পরিবারও এখন ভাগ বসাতে পারবে।
আদেশে বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধা/শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যা এবং জুলাইয়ের হতাহতের পরিবারের সদস্যদের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিতে ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। কোটার সুবিধা পেতে হলে আবেদনপত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র কিংবা গেজেটের সত্যায়িত অনুলিপি আবেদনপত্রের সঙ্গে যুক্ত করে দিতে হবে।
হাসপাতালে খাবারের বরাদ্দেও কোটা
জুলাই-আগস্টের সরকারবিরোধী আন্দোলনে আহতদের জন্য হাসপাতালে খাবারেরও বরাদ্দ বাড়িয়েছে ইউনূস সরকার। যেখানে অন্য সাধারণ বা গুরুতর রোগির খাবারে বরাদ্দ ১৭৫ টাকা, সেখানে বৈছা আহতরা পাবেন ২৫০ টাকার খাবার। রোগিদের খাবারের বরাদ্দ নিয়ে এই বৈষম্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ রোগিরা।
বৈছা আহতের খাবারের বরাদ্দ বৃদ্ধির এই নির্দেশনা দেশের সব সরকারি হাসপাতালকে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় গত ২৪শে ফেব্রুয়ারি অর্থ বিভাগ থেকে বরাদ্দ বাড়ানোর চিঠি দেওয়া হয়েছিল। ৫ই মার্চ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
গত ২২শে ফেব্রুয়ারি বৈছা আন্দোলনে আহতদের খাবারের জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ২রা মার্চ বরাদ্দ বাড়ানোর একটি চিঠিতে সই করেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শাহাদাত হোসেন কবির। চিঠির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টের আহত ও ভর্তি রোগিদের খাবারের গুণগত মান বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

আহত রোগিপ্রতি খাবার ১৭৫ টাকার পরিবর্তে ২৫০ টাকায় উন্নীত করার এই সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছে অর্থ বিভাগও। বৈছার আহত রোগিপ্রতি দৈনিক ২৫০ টাকা বরাদ্দের ক্ষেত্রে অন্য রোগিদের জন্য কোনও নজির উপস্থাপন করা যাবেনা বলেও নির্দেশনায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।
কোটাবিরোধীরা ভাসছেন কোটায়, সমালোচনায় মুখর সাধারণ মানুষ
কোটাবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বৈছা সমন্বয়ক সারজিস আলম অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর সেই সরকারে দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব না থাকা নিয়ে সরব হয়েছিলেন। তখন সারজিসের সেই কথাকে কোটা চাওয়ার সঙ্গে তুলনা করে তার সমালোচনা করা হয়েছিল। এখন স্কুলে ভর্তিতে কোটা বহালের আদেশের পর আবারও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
এই কোটাবিরোধী আন্দোলনের ফলে মুক্তিযোদ্ধা কোটার পরিমাণ কমে যাওয়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, নারীসহ বিভিন্ন কোটা কমে ১ শতাংশে নেমে আসে। এতে আদিবাসী এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর যে ক্ষতিটা হয়েছে, তা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে অনেক।
এখন স্কুলে ভর্তিতে কোটা দেখে আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা দীপায়ন খিসা বলেছেন, “কোটা সংস্কার বা কোটাবিরোধী আন্দোলন করে এখন আবার নতুন কোটা ব্যবস্থা চালু।”

ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, “ফিরছে নাকি কোটা আবার/চিপায় পড়লো মেধা!/কেউ হইল উপদেষ্টা/বাকিরা সব গাধা!”
জুলাইয়ের আন্দোলনকারীদের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের এসব পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা করছেন নেটিজেনরা। সিদ্দিক আহমেদ নামে একজন লিখেছেন: “নির্লজ্জের মত আবার কোটা মারাইতে গেল কেন ইন্টেরিম? এতগুলা মানুষ মরলো তবে কিসের জন্য? ওরা যারা মরল তারা কি কোটা চেয়েছিল? এসব উল্টাপাল্টা সিদ্ধান্তের জন্য গ্রহণযোগ্যতা হারাবে।”
কোটা দেখে জুলাইয়ের আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই বলছেন আন্দোলনকারীদের আসল সমস্যা ছিল মুক্তিযোদ্ধা কোটা। এখন তারা নিজেরাই কোটার পাহাড় নিয়ে বসে আছে। জাতিকে প্রতারিত করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে কোটা ব্যবস্থাকে।
