নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে জাতিসংঘ যে রিপোর্ট দিয়েছে, সেখানে ৫ আগস্টের পরেও নানা ঘটনা উঠে এসেছে। তাই সেগুলোরও তদন্ত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন। রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে “জুলাই হত্যাকান্ডের ব্যবচ্ছেদ, দায় ও বিচার” শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক কমিটি।
ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, “এখানে ১লা জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত তদন্ত করা হয়েছে, কিন্তু ৫ আগস্টের পর তদন্ত হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “আগস্টের ৫ তারিখের পরও নানা মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে, যার অভিযোগ রিপোর্টে উঠেছে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশে কিছু রাজনৈতিক দল ৫ আগস্টের পরও ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল। অর্থাৎ সেগুলোও তদন্ত হওয়া দরকার।”
তিনি আরও বলেন, “জাতিসংঘের রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক দল ৫ আগস্টের পরে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল। এগুলো অবশ্যই তদন্ত করা উচিত। আবার রিপোর্টে বলা হয়েছে, পরবর্তী ঘটনাগুলোর সঙ্গে দলের সদস্যরা জড়িত ছিলেন, তবে দল থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। এসব ঘটনা বিশেষ জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে, আদিবাসীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ হয়েছে, ঘরবাড়ি পোড়ানো হয়েছে—এসব নিয়ে জাতিসংঘের রিপোর্টে বলা হয়েছে, এগুলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের আওতায় পড়ে, যা তদন্ত হওয়া দরকার।”
৫ আগস্টের আগে এবং পরে দুটো ঘটনারই তদন্ত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করে ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, “যদি আমরা আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করতে চাই, তাহলে আমাদের প্রশ্ন করতে হবে, আমরা ওইভাবে চলতে চাই কিনা।”
আওয়ামী লীগপন্থীদের সমালোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার জানা মতে, অনেকেই এই রিপোর্টের জন্য বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিয়েছেন, যাদের আগের সরকারের সঙ্গেও সম্পর্ক ছিল। তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সমালোচনা করছেন এবং সঠিক তথ্য উপস্থাপন করছেন না।”
তিনি আরও বলেন, “অনেকে মনে করছেন, জুলাইয়ের ঘটনার শিকারদের প্রতিশোধ নেওয়া উচিত, কিন্তু আমরা এখানে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য জড়ো হইনি। আমরা এখানে আইনগত বিচার পাওয়ার কথা বলছি।”
ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, “জাতিসংঘের রিপোর্টে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি, কিন্তু আওয়ামীপন্থী অনেকের কাছ থেকে সমালোচনা আসছে। যারা এই রিপোর্ট ডিফেন্ড করতে চাচ্ছেন, তারা বলছেন যে, রিপোর্টের মাধ্যমে সন্দেহাতীতভাবে কিছু প্রমাণিত হয়নি, তাই আদালতে যেতে হবে।”
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য জহিরুল ইসলাম মুসা, হুমায়রা নূর। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া।
