নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে কিছু আইনজীবীর উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণে বিচার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে এবং বিচারকের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। এই ঘটনায় বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস এসোসিয়েশন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
১২ ফেব্রুয়ারি বুধবার সংগঠনের সভাপতি মো. আমিরুল ইসলাম ও মহাসচিব মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে এক মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণে আদালত কার্যক্রম ব্যাহত হয়। বিচারকরা মামলার গুণাগুণ যাচাই করে জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করলে, ঐ আইনজীবীরা বিচারকের বিরুদ্ধে অসত্য তথ্য প্রচার এবং মানহানির চেষ্টা করেন। পরে ১০ ফেব্রুয়ারি বিচারকের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে তাদের বিরুদ্ধে হুমকি এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “আইনজীবীদের এই আচরণ শুধু সাইবার ট্রাইব্যুনালকে নয়, বরং সারা দেশের বিচারক ও বিচার বিভাগের মর্যাদার প্রতি একটি সরাসরি হুমকি।” এসোসিয়েশন এই ধরনের আচরণকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার প্রতি মারাত্মক হুমকি হিসেবে মনে করে। তারা মনে করে, আইনজীবীদের পদ ও পেশি শক্তি প্রদর্শন করে আদালতের আদেশ পরিবর্তন করার চেষ্টার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করা হচ্ছে, যা ফৌজদারি অপরাধ।
এসোসিয়েশন আরও জানায়, এই ঘটনার পর তারা শুরুর থেকেই শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করেছে, তবে আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বরং তারা বিচারককে অপসারণের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ট্রাইব্যুনাল বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এমন অরাজকতা সৃষ্টির মাধ্যমে বিচারককে হুমকি দেওয়া এবং বিচারকার্য পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করা একটি অগ্রহণযোগ্য বিষয়।”
দাবীসমূহঃ
১। অনভিবিলম্ভে তদস্তপুর্বক দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন–শৃঙ্খলা বিদ্বকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনে মামলা দায়ের করতে হবে;
২। পেশাগত অসদাচণের দায়ে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সনদ বাতিল করতে হবে;
৩। ইতঃপূর্বে দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত একইরূপ ঘটনায় দায়েরকৃত আদালত অবমাননা মামলা ও সংশ্লিষ্টদের সনদ বাতিলের কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।
বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস এসোসিয়েশন এরই মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বিরোধী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করার দাবি জানিয়েছে। এছাড়া, পেশাগত অসদাচরণের জন্য সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সনদ বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, যদি এসব দাবি না মানা হয়, তাহলে দেশের বিচারকরা কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন।

