মনজুরুল হক
এইসব মোলায়েম বয়ান দিয়ে অযোগ্যতা ঢাকা যাবে না জনাব আসাদুজ্জামান কামাল। দেশের মানুষ আপনার নির্লিপ্ত জঙ্গীতোষণের কথা ভুলে যায়নি। একটার পর একটা ব্লগার হ/ত্যার পর আপনাদের বাণী ছিল-‘বিতর্কীত কথা লিখতে হবে কেন? এর নাম বাকস্বাধীনতা নয়’। আপনার অধীনস্ত পুলিশের পরামর্শ ছিলো-‘দেশ ছেড়ে বিদেশ চলে যান, মন্ত্রীর ডিউটি করে কূল পাইনা…’। আপনাদের সরকার হেফাজতকে মাথায় তুলেছে, রেলের জমি উপঢৌকন দিয়েছে, কওমি মাদ্রাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্স-এর সমমর্যাদা দিয়েছে।
সে সময় জনসাধারণ এসব প্রশ্ন তুললে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে জামাত-হেফাজতের সুরে সেক্যুলার-প্রগতিশীলদের ‘নাস্তিক’ ট্যাগ দেওয়া হয়েছে। সেসব ইতিহাসে খোদাই হয়ে আছে।
আর এখন বলছেন-“৫ আগষ্টে ইসলামী উগ্রবাদ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভ্যুত্থান হয়েছে”!
এটা জনগণ সেই সময়তেই জানতে পেরেছিল। আপনার জানতে এত সময় লাগার তো কথা নয়? ডিজিএফআই, এনএসআই ও পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট করে। গোয়েন্দাদের রিপোর্টের সারসংক্ষেপটাই শুধু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আসে। এটাও সবাই জানে। তাই বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইসলামী উগ্রবাদ ও সেনাবাহিনীর এক্সট্রা মুভমেন্ট দেখেও ঠাওর করতে পারবে না? এটা হয় আপনার অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস নয়ত অযোগ্যতা। ইসলামী উগ্রবাদের সমাবেশে খাঁটি মুসলমান সেজে দোয়া-খায়ের নিতে নিতে আপনি পেশদারিত্ব খুইয়েছিলেন।
এই যে আপনি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া ক্ষাতকারে বললেন “৪ঠা আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত আমি তার সঙ্গেই ছিলাম। পুলিশের প্রধানও ছিলেন সেখানে। সেনাপ্রধানও সেখানে ছিলেন। তিনি শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, কিছুই হবে না। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো। সেনাপ্রধান শেখ হাসিনাকে বলেছিলেন আপনার সুরক্ষার দায়িত্ব আমার জিম্মায়। এসব কিছুর সাক্ষী আমি নিজে। তখন আমি সেনাপ্রধানকে জিজ্ঞেস করেছি- আপনি কি সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিচ্ছেন? তিনি জবাবে হ্যাঁ বলেছিলেন। এরপর আমি আমার অধীনে থাকা পুলিশ প্রধানকে সেনাপ্রধানের সঙ্গে স্বাধীনভাবে আলোচনা করার কথা বলেছি। তারা যেন সব স্বাভাবিক করে।”
অর্থাৎ আপনি কার্যত সেনাপ্রধানের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করেছেন। তাকে যদি আপনি ‘সর্প হইয়া দংশন করো ওঝা হইয়া ঝাড়ো’ আখ্যায়িত করেন তার পরও এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে তিনি শেখ হাসিনাকে জীবিত দেশ ছাড়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। সীমান্তের ওপার থেকে পুরো বিষয়টির মনিটরিং করেছিলেন অজিত দোভাল।
দীর্ঘদিন পর ‘ইটের তলা থেকে বেরোনোয়’ আপনাকে ফ্যাকাসে দেখাচ্ছে। আপনি একজন মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার হয়ে, সরকারের সবচেয়ে ক্ষমতাধর মন্ত্রী হয়ে কিছু জঙ্গীকে জেলে ভরেছেন, আবার তাদেরই বর্ণচোরা সহমতকারীদের ‘উম্মতের ভাই’ বানিয়ে পাশে বসিয়েছেন।
ছাত্র-জনতা, আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক, পুলিশসহ সাধারণ শ্রমিক-মজদুর মিলিয়ে কয়েক হাজার মানুষের জীবন নাশের পর কোনোভাবেও ড্যামেজ কন্ট্রোল হয় না জনাব।
……………………………….
২৬ জানুয়ারি, ২০২৫
Visited 108 times, 1 visit(s) today
