দাউদকান্দিতে শিক্ষার্থীদের ওপর যুবদল নেতার হামলা, আহত ২০

দাউদকান্দিতে শিক্ষার্থীদের ওপর যুবদল নেতার হামলা, আহত ২০
শেয়ার করুন
স্থানীয় সংবাদদাতা

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে অধ্যক্ষের কলেজে ফিরে আসার খবরে যুবদলের হামলায় ২০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে বিরাজ করছে আতঙ্ক।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বরকোটা স্কুল অ্যান্ড কলেজ শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, গত ৫ই আগস্ট উপজেলার বরকোটা স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুবদল নেতা রুহুল আমিনের নেতৃত্ব হামলা করে স্থানীয়রা। অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিনের অপসারণ চেয়ে কলেজের পাঠাগার ভাঙচুর করা হয়। সেদিন থেকে ছুটিতে ছিলেন অধ্যক্ষ জসিম উদ্দীন।

আজ মঙ্গলবার ১০ইডিসেম্বর জসিম উদ্দীন কলেজে যাবেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে কিছু শিক্ষার্থীরা তাকে বরণ করে নিতে উপস্থিত হয় ক্যাম্পাসে।

এদিকে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে অধ্যক্ষকে কলেজে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না ঘোষণা দিয়ে বহিরাগত কয়েকজন যুবক লাঠি নিয়ে কলেজ এলাকায় মহড়া দেয়। একপর্যায়ে ছাত্রদের সাথে বাকবিতণ্ডা সংঘর্ষে রূপ নিলে হামলায় ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়।

আহত শিক্ষার্থীরা হলেন, সাজ্জাদ, দীপ, ফয়সাল, মৃদুল, কামরান, সিয়াম, রিমন, তানভীর, ফয়সাল, জিসান, হামিদা, সাদিয়া, মনিকা, দিয়া, ইসরাত জাহানসহ আরো কয়েকজন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে- শিক্ষার্থীরা বলছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে।

এ সময় ছাত্ররা যুবদল নেতা রুহুল আমিনের বিচার এবং কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলামসহ কয়েকজন শিক্ষকের অপসারণ চেয়ে স্লোগান দেয়। পরে হাইওয়ে পুলিশের প্রচেষ্টায় ঘণ্টাব্যাপী চলা অবরোধ তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা।

কলেজের অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন বলেন, ৫ই আগষ্টের পর থেকে আমি ছুটিতে ছিলাম, আজ কলেজে যাওয়ার খবরে শিক্ষার্থীরা আমাকে বরণ করতে আসলে স্থানীয় যুবদল নেতা রুহুল আমিনের ভাইসহ সন্ত্রাসীরা আমার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। আমি এ হামলার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

দাউদকান্দি থানার ওসি জুনায়েদ চৌধুরী জানান, বরকোটা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছুটিতে থাকা অধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে নিয়ে শিক্ষার্থীদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ বাধে। এই ঘটনায় একজনকে আহত অবস্থায় দেখেছি। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছে, কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম এবং যুবদল নেতা রুহুল আমিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও রিসিভ করেননি।

Visited 13 times, 1 visit(s) today