অর্থ পাচার মামলায় দুই বন্ধু তারেক-মামুনের সাজা স্থগিত

অর্থ পাচার মামলায় দুই বন্ধু তারেক-মামুনের সাজা স্থগিত
শেয়ার করুন
সংবাদ প্রতিবেদন

অর্থ পাচারের মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তার বন্ধু ও ব্যবসায়িক অংশীদার গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের ৭ বছরের কারাদণ্ডের রায় স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

এদিন আদালতে তারেক রহমান ও গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের পক্ষে শুনানি করেন দলের নেতা ও আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার ইমেজকে ক্ষুণ্ন করার জন্য রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় ৭ বছরের সাজা দিয়েছিলেন। আজকে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে আমাদের লিভ দিয়েছেন (আপিলের জন্য অনুমতি)। আগামী ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে দুদক ও আমাদেরকে আপিলের সার সংক্ষেপ দিতে বলেছেন।

তিনি বলেন, সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ৭ বছরের দণ্ড স্থগিত করেছেন। এই মামলায় দুইজন আসামি। দুইজনের ক্ষেত্রেই সাজা স্থগিত করা হয়েছে।

কায়সার কামাল বলেন, বিচারিক আদালতে তারেক রহমান খালাস পেলেও উচ্চ আদালতে তাকে সাজা দেওয়া হয়। এরূপ দৃষ্টান্ত বিচার ব্যবস্থায় বিরল। আমরা হাইকোর্ট রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতির আবেদন (লিভ টু আপিল) দায়ের করি। আজ আপিল বিভাগ লিভ মঞ্জুর (আপিলের অনুমতি) করে আদেশ দেন। আগামী ৩১শে ডিসেম্বরে মধ্যে পক্ষদ্বয়কে আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দিতে বলেছেন সর্বোচ্চ আদালত। পাশাপাশি হাইকোর্টের সাজাও স্থগিত করেছেন।

সেনাশাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানায় ২০০৯ সালের ২৬শে অক্টোবর দুদকের দায়ের করা এই মামলায় তারেক ও বন্ধ মামুনের বিচার শুরু হয় ২০১১ সালের ৬ই জুলাই।

এর আগে ২০১০ সালের ৬ই জুলাই তাদের দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

মামলাটিতে ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়, যাদের মধ্যে অভিযোগপত্রের বাইরের সাক্ষী হিসেবে ছিলেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) এজেন্ট ডেবরা লেপরোভেট।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, টঙ্গীতে প্রস্তাবিত ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য নির্মাণ কন্সট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান খাদিজা ইসলামের কাছ থেকে গিয়াস উদ্দিন আল মামুন ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা নেন। সিঙ্গাপুরে এ টাকা লেনদেন হয়।

এরপর মামুন ওই অর্থ সিঙ্গাপুরের ক্যাপিটাল স্ট্রিটের সিটি ব্যাংক এনএতে তার নামের ব্যাংক হিসাবে জমা করেন। এ টাকার মধ্যে তারেক রহমান তিন কোটি ৭৮ লাখ টাকা খরচ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

ঘুষ হিসেবে আদায়ের পর ২০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে করা এ মামলার রায়ে ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ মো. মোতাহার হোসেন ২০১৩ সালের ১৭ই নভেম্বর তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দিয়েছিলেন। আর গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে দেওয়া হয়েছিল ৭ বছর কারাদণ্ড এবং ৪০ কোটি টাকার অর্থদণ্ড।

তারেক রহমানের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে দুদক ২০১৩ সালের ৫ই ডিসেম্বর আপিলের আবেদন করে। শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ১৯শে জানুয়ারি হাই কোর্ট দুদকের আপিল গ্রহণ করে তারেক রহমানকে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেয়।

২০১৬ সালের ২১শে জুলাই বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের হাই কোর্ট বেঞ্চ তারেক রহমানকে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ কোটি টাকার অর্থদণ্ড দেয়। সেই সঙ্গে মামুনের ৭ বছরের কারাদণ্ডও বহাল রাখা হয়। তবে তাকে বিচারিক আদালতের দেওয়া ৪০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড পরিবর্তন করে ২০ কোটি টাকা করা হয়।

এই রায়ের বিরুদ্ধে গিয়াসউদ্দিন আল মামুন আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন।

প্রসঙ্গত, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান রাজনীতি করবেন না মুচলেকা দিয়ে দেশত্যাগ করার পর ২০০৮ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে রয়েছেন।

Visited 19 times, 1 visit(s) today