নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে আওয়ামীলীগের নেতাদের গণহারে হত্যা মামলায় আসামী ও গ্রেফতার করা হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু বগুড়া কারাগারেই চারজন আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু ঘটেছে। এই মৃত্যুগুলো কী অসুস্থতাজনিত নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আওয়ামীলীগ।
মঙ্গলবার(১২ ডিসেম্বর) বাংলাদেশে আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মাদ আলী আরাফাত বলেন, সকলের মৃত্যুর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে হার্ট অ্যাটাক! হার্ট অ্যাটাকের এমন কাকতাল যোগসূত্র এই প্রথম দেখছে দেশবাসী। মারা যাওয়া গ্রেফতার ৫ জনের কারও নামেই মামলা ছিল না। শুধুই সন্দেহবশত গ্রেফতার করা হয়েছিল। আরও ভয়ংকর বিষয় হলো, পরে যে মামলাটি রুজু করা হয়েছে সেখানে মৃত দুজনের নামও দিয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।
তিনি দাবি করেন, এর আগে কারাবন্দী থাকাবস্থায় অসুস্থ হয়ে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শাহাদত আলম ঝুনু, বগুড়া পৌরসভার ১৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম রতন এবং শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও উপজেলা দলিললেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল লতিফ মারা যান। সর্বশেষ যোগ হলো গাবতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, দুর্গাহাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৬নং ওয়ার্ড শাখার সভাপতি এবং দুর্গাহাটা ইউপির একাধিকবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান আবদুল মতিন মিঠু।
গোপালগঞ্জে আ’লীগের কর্মীদের বিচার বর্হিভূত হত্যার অভিযোগ তুলে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, গোপালগঞ্জের দুজন আওয়ামী লীগ কর্মী, এলাহী সিকদার(২৫) এবং আলিমুজ্জামান চৌধুরী(৫৮) কারা হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেছেন। দুজনের ওপরেই নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে এবং চিকিৎসায় গাফিলতির মাধ্যমে হত্যার অভিযোগও উঠেছে। তা ছাড়া আলিমুজ্জামান চৌধুরী থানায় বিচার চাইতে গিয়ে গ্রেফতারের শিকার হয়েছিলেন।
তিনি আরও দাবি করেন, এভাবে গত প্রায় চারমাসে মোট ৮ জন আওয়ামী লীগ নেতার কারাগারে মৃত্যু ঘটেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে নির্যাতন ও চিকিৎসায় গাফিলতির ঘটনা ঘটেছে। এসব অস্বাভাবিক মৃত্যুগুলো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কিনা তা নিশ্চয়ই একদিন বেরিয়ে আসবে।
