ঢাকা বিমানবন্দরের কাছে শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

ঢাকা বিমানবন্দরের কাছে শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ
শেয়ার করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক

সনাতন ধর্মবিশ্বাসী সংগঠন আন্তর্জাতিক শ্রীকৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) সংগঠক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার ২৫শে নভেম্বর বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডিবি পরিচয়ে সাদা একটি গাড়িতে তুলে নেয় বলে অভিযোগ করেন তার ব্যক্তিগত সহকারী আদিত্য দাশ।

ঢাকা থেকে বিমানে চট্টগ্রামে ফেরার উদ্দেশ্যেই তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন বলেও জানান তিনি।

পুণ্ডরীক ধাম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল যে গাড়িতে করে তার নম্বর ছিল ‘ঢাকা মেট্রো চ-৫২-১১৬১’।

আদিত্য দাশ বলেন, গাড়ি থেকে এয়ারপোর্টে নামার পর বিকেল ৩টা ৫০মিনিটের দিকে কয়েকজন এসে ডিবি পরিচয়ে ‘স্যারের সঙ্গে কথা আছে’ বলে একটি গাড়িতে তুলে নেয়া হয়। ঢাকা থেকে বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে নভোএয়ারে চট্টগ্রাম ফেরার কথা ছিলো আমাদের।

এমন কার্যক্রমকে নিন্দনীয় ও ঘৃণিত উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষ শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের দ্রুত ও স্বসম্মানে মুক্তির জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে পুণ্ডরীক ধাম কর্তৃপক্ষ।

নিজ সম্প্রদায়ের মাঝে জনপ্রিয় এ সাধুর তুলে নেওয়ার ঘটনাটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

মিথুন দাস নামে এক ভক্ত বলেন, ঢাকা বিমানবন্দর থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে ডিবির পরিচয়ে তুলে নিয়ে ঘটনা যদি সত্যি হয় সরকার কাজটা ভালো করে নাই। একটি ষড়যন্ত্র আরও ধর্মীয় সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশ চলে যাওয়ার দার প্রান্তে এই ঘটনার তিব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

এর আগে গত ৩০শে অক্টোবর চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। মো. ফিরোজ খান নামে বিএনপির এক নেতা বাদী হয়ে নগরীর কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন। জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে এ মামলা দায়ের হয়। মামলার পরই দুজনকে গ্রেপ্তার করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারা হলেন- রাজেশ চৌধুরী ও হৃদয় দাশ।

মামলার আসামিরা হলেন- ইসকনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও পুণ্ডরীক ধাম মন্দিরের অধ্যক্ষ চন্দন কুমার ধর প্রকাশ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী (৩৮), চট্টগ্রামের হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সমন্বয়ক অজয় দত্ত (৩৪), নগরীর প্রবর্তক ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ লীলা রাজ দাশ ব্রহ্মচারী (৪৮), গোপাল দাশ টিপু (৩৮), ডা. কথক দাশ (৪০), প্রকৌশলী অমিত ধর (৩৮), রনি দাশ (৩৮), রাজীব দাশ (৩২), কৃষ্ণ কুমার দত্ত (৫২), জিকু চৌধুরী (৪০), নিউটন দে ববি (৩৮), তুষার চক্রবর্তী রাজীব (২৮), মিথুন দে (৩৫), রুপন ধর (৩৫), রিমন দত্ত (২৮), সুকান্ত দাশ (২৮), বিশ্বজিৎ গুপ্ত (৪২), রাজেশ চৌধুরী (২৮) এবং হৃদয় দাস (২৫)। একই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে

Visited 205 times, 1 visit(s) today