❐ নিজস্ব সংবাদদাতা
আওয়ামী লীগ সরকারের প্রকল্পে ২০১৯ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর শেষ হয় নির্মাণ, ভবনও হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্নের আগেই ঘটে ক্ষমতার পালাবদল। এরপর ইউনূস আমল শেষে বিএনপি সরকারের শাসনকাল চলছে। অথচ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা এখনো শুরু হয়নি।
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার চৌবাড়ী ২০ শয্যা হাসপাতাল তিন বছর ধরে তালাবদ্ধ। চিকিৎসক ও কর্মচারীদের আবাসনসহ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামো অব্যবহৃত থেকে নষ্ট হচ্ছে।
এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে প্রায় কোটি টাকার যন্ত্রপাতি, মালামাল ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরির অভিযোগ উঠেছে। জনসেবার উদ্দেশ্যে তৈরি হাসপাতালটি এখন অবহেলা ও অযত্নের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর তৎকালীন সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত কামারখন্দ উপজেলার চৌবাড়ী ২০ শয্যা হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। ২০২৩ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে ভবনটি হস্তান্তর করা হয়।
চিকিৎসক এবং জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই রাষ্ট্রক্ষমতার পালাবদল ঘটে। তবে হাসপাতালটি এখনো চালু হয়নি। ফলে এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য নির্মিত প্রতিষ্ঠানটি তিন বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে।
হাসপাতালের প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে, সামনে জমেছে ময়লা। সীমানাপ্রাচীর দিয়ে ঘেরা হাসপাতাল চত্বর ঘাস ও আগাছায় ছেয়ে গেছে। দোতলা মূল ভবনের পাশাপাশি চিকিৎসক ও কর্মচারীদের থাকার জন্য তৈরি করা হয়েছে তিনটি পৃথক ভবন—দুটি দোতলা এবং একটি তিনতলা। অ্যাম্বুলেন্স, যানবাহন ও জেনারেটর রাখার জন্য রয়েছে আরও দুটি ভবন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, হাসপাতাল থেকে লাখ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি, মালামাল ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরি হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান বলেন, তিনি নতুন যোগ দিয়েছেন। জনবলের অভাবে হাসপাতালটি দীর্ঘদিন চালু না থাকায় সেখানকার অনেক কিছু চুরি হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।
সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোমিন উদ্দিন বলেন, হাসপাতালের তিনটি শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফ্যান, বাতি, স্যানিটারি সামগ্রী, জেনারেটরের যন্ত্রাংশ এবং অস্ত্রোপচার কক্ষের বেশির ভাগ যন্ত্রপাতি চুরি হয়েছে। সব মিলিয়ে চুরি যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি, মালামাল ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের মূল্য প্রায় কোটি টাকা।
এ ঘটনায় তিনি নিজেই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। চুরির বিষয়টি জানিয়ে হাসপাতাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠিও পাঠিয়েছেন।
জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল ও ভূমি অধিগ্রহণ শাখা সূত্রে জানা গেছে, ঠিকাদারের মাধ্যমে ২০২৩ সালের মে মাসে চৌবাড়ী ২০ শয্যা হাসপাতালের নির্মাণকাজ শেষ হয়। একই বছরের ১২ই সেপ্টেম্বর ভবনটি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হাসপাতাল নির্মাণ ও ভূমি অধিগ্রহণে মোট ব্যয় হয়েছে ১৯ কোটি ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৭৪৪ টাকা।
এর মধ্যে অবকাঠামো নির্মাণে ১৬ কোটি ১৪ লাখ এবং ভূমি অধিগ্রহণে ৩ কোটি ২১ লাখ ৮১ হাজার ৭৪৪ টাকা খরচ হয়েছে।
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলি জানান, হাসপাতালের সরঞ্জাম চুরির মামলায় সন্দেহভাজন ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন নুরুল আমিন বলেন, প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেলে এবং জনবল নিয়োগ হলেই হাসপাতালটি দ্রুত চালু করা সম্ভব। চুরির ঘটনা স্বীকার করে তিনি জানান, প্রশাসনিক অনুমোদন চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
তার আশা, দ্রুত হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু করা যাবে।
