লালন মেলাকে ‘ঈমান বিধ্বংসী’ আখ্যা দিয়ে বন্ধের হুমকি, আতঙ্কে আয়োজকরা

লালন মেলাকে ‘ঈমান বিধ্বংসী’ আখ্যা দিয়ে বন্ধের হুমকি, আতঙ্কে আয়োজকরা
শেয়ার করুন
স্থানীয় সংবাদদাতা

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়নের মধ্য নরসিংহপুর গ্রামে মুক্তিধাম আশ্রম ও লালন একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত সাধুসঙ্গ ও লালন মেলাকে ‘ঈমান বিধ্বংসী’ আখ্যা দিয়ে বন্ধের হুমকি দিয়েছে একদল উগ্রবাদী, যারা নিজেদের ‘তৌহিদী জনতা’ বলে পরিচয় দিচ্ছে। এতে আয়োজকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মুক্তিধাম আশ্রম ও লালন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ফকির শাহ জালাল জানিয়েছেন, প্রতি বছরই লালন স্মরণে সাধুসঙ্গ ও মেলার আয়োজন করা হয়, যেখানে ভক্তরা লালনের গান পরিবেশন করেন এবং সবার মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।

তিনি বলেন, আগের বছরগুলোতে কোনো বাধা আসেনি, কিন্তু এবার কিছু ব্যক্তি আমাদের আয়োজন বন্ধ করতে হুমকি দিচ্ছে। তারা বলছে, মেলা চালালে সবকিছু ভেঙে ফেলবে।

গত শুক্রবার ‘কাশীপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল করে শতাধিক ব্যক্তি। পরে স্থানীয় একটি ঈদগাহ মাঠে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল আউয়াল মেলার বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন।

একটি ভিডিও চিত্রে মাওলানাকে বলতে শোনা যায়, প্রয়োজনে তৌহিদী জনতা শক্তি প্রয়োগ করবে এবং এ আয়োজন বন্ধ করতে যা যা করা দরকার, তা করবে।

ফকির শাহ জালাল জানান, আয়োজনে বাধা দেওয়ার জন্য শুক্রবার মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়, যাতে লোকজন আশ্রমে হামলার প্রস্তুতি নেয়। তবে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বড় কোনো সংঘর্ষ হয়নি।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শরীফুল ইসলাম বলেন, যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সে জন্য আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। আয়োজকদের বলেছি, তারা যেন যথাযথ অনুমতি নিয়ে কাজ করেন।

এদিকে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন আয়োজকরা।

ফকির শাহ জালাল জানান, আমাদের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কিন্তু হামলার ভয় এখনো কাটছে না।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক জানান, মেলার অনুমতি ও বিরোধিতার বিষয়টি পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতির শঙ্কা থাকলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট নিন্দা জানিয়েছে এবং মেলা নির্বিঘ্নে আয়োজন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।

Visited 27 times, 1 visit(s) today