অর্থনীতি
ভারত থেকে দীর্ঘদিন পর চাল আমদানি শুরু হয়েছে। সোমবার সকালে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রথম চালানে ১০৫ টন চাল এসেছে। শুল্ককর প্রত্যাহারের পর এই আমদানি শুরু হলো বলে জানিয়েছেন বেনাপোল শুল্ক ভবনের কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা আবু তাহের।
যশোরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মাহাবুবুল আলম ফুড প্রোডাক্ট ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সুধর্ম আয়াতনির্যাত প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে এই নন-বাসমতি চাল আমদানি করেছে। আমদানি করা চালের বাজারমূল্য ৪৫ হাজার ১৫০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা।
বেনাপোল বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হোসেন অ্যান্ড সন্সের প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান জানিয়েছেন, আমদানি করা চালের কেজি প্রতি খরচ প্রায় ৫৫ টাকা। এর মধ্যে পরিবহন, বন্দরের ভাড়া এবং অন্যান্য খরচ অন্তর্ভুক্ত।
স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একই আমদানিকারকের আরও ১০৫ টন চাল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া অর্ক ট্রেডিংয়ের আরও ১০০ টন চালের গেটপাস করা হয়েছে।
রোববার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে ৯২টি প্রতিষ্ঠানকে ভারত থেকে চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। ২২শে ডিসেম্বরের মধ্যে বরাদ্দকৃত চাল আমদানি করে বাজারজাত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক কাজী রতন বলেন, কাস্টমস থেকে দ্রুত শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চাল ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
২০২৩ সালের জুলাই থেকে ভারত চাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় গত বছরের নভেম্বর থেকে এ বন্দরের মাধ্যমে চাল আমদানি বন্ধ ছিল। তবে শুল্ককর প্রত্যাহার এবং ভারতীয় বাজার উন্মুক্ত হওয়ায় আমদানিতে গতি এসেছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের শর্তানুযায়ী, আমদানিকৃত চাল বস্তায় বিক্রি করতে হবে এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে গুদামজাত ও বাজারজাতকরণের তথ্য সরবরাহ করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ আমদানি দেশের বাজারে চালের মূল্য স্থিতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
