স্পোর্টস ডেস্ক:
সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে মিরপুর টেস্টে লজ্জাজনক পরাজয়ের পর কোনো অজুহাত না দিয়ে সরাসরি নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করে নিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
একশ পেরোতেই শেষ প্রথম ইনিংস, দ্বিতীয়বারেও সেই একই শঙ্কা। যদিও বহু কষ্টে মেহেদী হাসান মিরাজ ও জাকের আলির জুটিতে কাটে সেই শঙ্কার মেঘ। তবে এই ‘কষ্ট’ ম্যাচের ফলাফলে তেমন প্রভাব রাখতে পারেনি। বাজে ব্যাটিং ঢেকে দেওয়ার মতো যথেষ্ট ভালো বোলিংও করতে পারেনি বাংলাদেশ। এমন লজ্জাজনক হারের পর সব মিলিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করে নেওয়া ছাড়া বিকল্পও ছিলনা মিরাজের হাতে।
টাইগার্স ডেন খ্যাত মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হতশ্রী ব্যাটিং প্রথম টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। অথচ ম্যাচ শুরুর আগে এই টেস্ট তো বটেই, সিরিজ জেতার বড় সম্ভাবনার কথাও বলেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক ও প্রধান কোচ। কিন্তু মাঠে তার প্রতিফলন মোটেই চোখে পড়েনি।
ম্যাচ শুরুর আগে শান্ত বলেছিলেন, সচরাচর যেমন দেখা যায়, মিরপুর টেস্টের উইকেট তেমনই হবে। তার কথা পুরোটা না মিললেও কিছুটা মিলেছে। উইকেটে স্পিনারদের জন্য টার্ন দেখা গেলেও হঠাৎ হয়ে গেছে পেসবান্ধব। দেখা গেছে বাড়তি বাউন্স ও মুভমেন্ট। মিরপুরের জন্য যা বিস্ময়কর বটে!
এমন আকাঙ্খিত উইকেট পেয়ে জ্বলে উঠেছেন প্রোটিয়া পেসাররা। দুই ইনিংসেই তাদের বোলারদের কোনো জবাব দিতে পারেনি বাংলাদেশের টপ-অর্ডার। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়বার প্রথম ৬ ব্যাটসম্যান ফেরেন ১১২ রানে। এরপর মিরাজ-জাকেরের ১৩৮ রানের জুটি ইনিংস পরাজয়টাই শুধু এড়াতে পেরেছে।
সাধারণত মিরপুরে স্পিনারদের দাপট দেখা যায়। তবে দুই ইনিংসেই দারুণ বোলিং করেন দুই প্রোটিয়া পেসার কাগিসো রাবাদা ও ভিয়ান মুল্ডার। ম্যাচে রাবাদার ৯ উইকেটের সঙ্গে পেস অলরাউন্ডার মুল্ডারের শিকার ৩টি। আর দুই স্পিনার কেশাভ মহারাজ ও ডেন পিট মিলে নেন বাকি ৭ উইকেট।
বাংলাদেশ একাদশে থাকা একমাত্র পেসার হাসান মাহমুদ প্রথম ইনিংসে নেন ৩ উইকেট। ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বাকি ১০ উইকেট নেন দুই স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও মিরাজ।
ম্যাচে হারের পর যথারীতি ব্যাটিং ব্যর্থতাই মূল আলোচনায়। পাশাপাশি সফরকারী পেসারদের সাফল্যের কারণে প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশের একাদশ সাজানো নিয়েও। এমনকি ঘরের মাঠের উইকেটের সুবিধা কাজে লাগাতে না পারা নিয়েও চলছে তীব্র সমালোচনা।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করলেন মিরাজ।
বলেন- অনেক প্রশ্ন উঠছে। আমরা যদি ভালো ক্রিকেট খেলতাম, এত প্রশ্ন আসত না। এটা আমাদের ব্যর্থতা, আমরা স্বীকার করছি। আমরা দল হিসেবে খেলতে পারিনি। এক-দুইজন ভালো খেললে কখনোই পুরো দল ভালো ফল পাবে না। যা আমরা পাকিস্তানে করে এসেছিলাম। সেখানে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি। হয়তো আমাদের কিছু জায়গায় ঘাটতি ছিল। তবু আমরা জিতেছি।
সংবাদ সম্মেলনের ব্যাটসম্যানদের বড় ইনিংস খেলার কথা মনে করিয়ে দেন তিনি।
বলেন- আমাদের অনেক উন্নতির জায়গা আছে। ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব নিতে হবে। বোর্ডে যদি রান না দিতে পারি, বোলারদের জন্য কঠিন। আমাদের বোলাররা খুবই ভালো বোলিং করেছে। যেভাবে চাপ দিয়ে সবসময় বোলিং করে, এটার অবশ্যই কৃতিত্ব দিতে হবে। তাইজুল ভাই খুব ভালো বোলিং করেছে। অন্তত ৩-৪ জন ব্যাটসম্যান যেন বড় রান করে, তাহলে দলের ভালো হয়। আমরা ওভাবেই দলের ভেতরে কথা বলছি, আলোচনা করছি। আশা করি, সামনের ম্যাচগুলোতে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারব।
দেশের মাটিতে এ নিয়ে টানা ৪ টেস্ট হারল টাইগাররা। এই ৪ ম্যাচের ৮ ইনিংসের মধ্যে মাত্র দুবার দুইশ ছুঁতে পেরেছে দলীয় স্কোর। বিপরীতে প্রতিপক্ষকে ৫শর বেশি রান দেওয়ার ঘটনাও আছে এই ৪ ম্যাচের মধ্যে। তাই স্বাভাবিকভাবেই ঘরের মাঠে সুবিধা কাজে লাগাতে না পারার প্রশ্ন উঠছে। এই প্রসঙ্গেও নিজেদের দায় স্বীকার করেন মিরাজ। একইসাথে প্রশ্ন উঠেছে টেকনিক্যাল স্টাফ ও কোচদের পরামর্শ নিয়েও। তারা কি পিচ বুঝতে পারছেন না?
