বিশেষ সংবাদদাতা:
বাংলাদেশে সদ্যসমাপ্ত দুর্গাপূজায় পূজামণ্ডপে উঠে ইসলামী সঙ্গীত পরিবেশন এবং কোরআন পাঠের দুটি ভিন্ন ঘটনায় হতবাক হয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। এ বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মনোভাব জানতে চাওয়া হলে মিলার এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে লিখিত উত্তর দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
বুধবার ১৬ই অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিতে নিয়মিত ব্রিফিংকালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার এ কথা বলেন।
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধি সাংবাদিক দস্তগীর জাহাঙ্গীর মার্কিন মুখপাত্র মিলারকে জানান, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদ্যসমাপ্ত সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজার সময় দুটি পৃথক ঘটনায় পূজামণ্ডপে উঠে ইসলামী গান পরিবেশন এবং কোরআন পাঠ কর একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জন্ম দেয় একটি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী। এ বিষয়ে মার্কিন সরকারের প্রতিক্রিয়া জানতে চান এই সাংবাদিক।
দুর্গাপূজার এমন ঘটনা মিলার শোনেননি বলে স্বীকার করেন। তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে ই-মেইলের মাধ্যমে লিখিত জবাব প্রদানের অঙ্গীকার করেন মিলার।
পাশাপাশি এও জানান যে, বাংলাদেশের নাগরিকরা প্রত্যেকেই যেন নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করতে পারেন, কেউ যেন কারো ধর্ম পালনে বাধা না দেয়, ধর্মীয় আচার পালন বাধাগ্রস্ত না হয়, মার্কিন সরকার এমনটাই প্রত্যাশা করে।
৩ হাজার পুলিশ হত্যার বিচার চায় যুক্তরাষ্ট্র:
বাংলাদেশি সাংবাদিক দস্তগীর জাহাঙ্গীর মার্কিন মুখপাত্র মিলারকে জানান, বাংলাদেশে বর্তমানে ক্ষমতায় আসীন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনা অনুসারে বলা হয়েছে ১৫ই জুলাই থেকে ৮ই অগাস্ট পর্যন্ত সংগঠিত সরকারবিরোধী আন্দোলেন যারা অংশ নিয়েছিল এবং এসময় তাদের দ্বারা যত অপরাধ, সহিংসতা, হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, এসব ঘটনার জন্য থানায় বা আদালতে কোনো মামলা করা যাবেনা। এসব অপরাধ থেকে ড. ইউনূসের সরকার তাদের দায়মুক্তি দিয়েছে।
মিলারকে আরও জানানো হয়, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা আগস্টের ৫ তারিখ থেকে ৮ তারিখ পর্যন্ত সারাদেশের ৪ শতাধিক থানায় হামলা করেছে, অগ্নিসংযোগ করে থানাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে, গুঁড়িয়ে দেয়। সেইসাথে বিপুল অস্ত্র ও গোলাাবরুদ লুট করে নিয়ে যায়। গর্ভবতী নারী পুলিশ সদস্যসহ ৩ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে তারা। কাউকে কুপিয়ে, জবাই করে, কাউকে জীবিত আগুনে পুড়িয়ে বা বিভিন্নভাবে। হত্যার পর তাদের লাশ ঝুলিয়ে রেখেছিল। বিভিন্ন দেশের মত বাংলাদেশেও আভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকে পুলিশ বাহিনী। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে ড. ইউনূসের মেটিক্যুলাস প্ল্যান মোতাবেক পুলিশের ওপর নির্মম হত্যাযজ্ঞের কারণে।
বাংলাদেশি এই সাংবাদিক মিলারের কাছে জানতে চাইলেন, পুলিশের ওপর এমন নির্মম হত্যাযজ্ঞ সত্ত্বেও হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হবেনা, আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবেনা বলে নির্দেশনা জারি করল ইউনূস সরকার, এ বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব কী? যুক্তরাষ্ট্র কি এই নির্দেশনাকে গ্রহণযোগ্য মনে করে? এ ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কী ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখাবে?
এই মর্মন্তুদ ঘটনাগুলোর দায়মুক্তি প্রসঙ্গে ম্যাথিউ মিলার জানান, বাংলাদেশে প্রতিটি সহিংস ঘটনার, যেখানে যত রক্তপাত ঘটেছে, যত সহিংসতা ঘটেছে, যত অন্যায় হয়েছে, সবকিছুরই সুষ্ঠু বিচার দেখতে চায় তার দেশ। কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা, বা ঘটনা সংঘটিত হওয়ার তারিখ অনুসারে নয়, পুলিশ হত্যাসহ প্রতিটি ঘটনারই সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচার দেখতে চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
এসময় বাংলাদেশি ওই সাংবাদিক মিলারকে আরও জানান, এ মুহূর্তে বাংলাদেশের সর্বত্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর নির্বিচারে নির্যাতন, হত্যা ও গণগ্রেপ্তার চালানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী হত্যার শিকার হয়েছেন। বিনা অপরাধে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ব্যাপারে মার্কিন সরকারের মনোভাব জানতে চান সাংবাদিক।
প্রশ্নের জবাবে মিলার জানান, বাংলাদেশে এ মুহূর্তে যা কিছু ঘটছে, তা কাম্য নয়। প্রতিটি ঘটনার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ন্যায়বিচার চায় যুক্তরাষ্ট্র।
ব্রিফিংয়ের বিস্তারিত:
