❐ নিজস্ব সংবাদদাতা
বগুড়া জেলা কারাগারে বন্দি অবস্থায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে কার্যক্রম যুবলীগের ধুনট পৌরসভার সাবেক সভাপতি সোহরাব হোসেনের মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল ২৩শে অক্টোবর, শুক্রবার সকালে অসুস্থ হওয়ার পর তাকে জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ‘চিকিৎসাধীন অবস্থায়’ তার মৃত্যু হয়।
এ নিয়ে বগুড়া কারাগারে বন্দি অবস্থায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল অন্তত নয়জনে, যার মধ্যে ছয়জনই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের পদধারী নেতা।
বগুড়া কারাগারের জেল সুপার আসাদুর রহমানের দাবি, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর সোহরাব হোসেনকে জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।
সোহরাব হোসেন ধুনট পৌরসভার সদরপাড়া গ্রামের মৃত রহম আলী হাজীর ছেলে। কথিত বিস্ফোরকসহ একাধিক মামলায় চার মাস ধরে তিনি কারাগারে আটক ছিলেন।
তার বড় ভাই শহিদুল ইসলাম জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সোহরাবের মৃত্যু হয়েছে বলে কারা কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষের এমন দাবি মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। তারা জানান, সোহরাবের হৃদরোগের কোনো সমস্যা ছিল না। কারাগারে তার ওপর অকথ্য নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতনেই মারা গেছে কারাগারে। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার দুপুরে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বাদ আসর ধুনটের চর ধুনট এলাকার জান্নাতুল ফেরদৌস কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, কারাগারে সোহরাব হোসেন নামের এক যুবলীগ নেতার মৃত্যুর বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষ দেখছে।
আগেও মারা গেছেন ৯ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী
বগুড়া জেলা কারাগারে বন্দি অবস্থায় এর আগে ছয় আওয়ামী লীগ নেতাসহ কয়েকজন কর্মীর মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে।
তারা হলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদত আলম ঝুনু, গাবতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও দুর্গাহাটা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মিঠু, শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ, গাবতলী উপজেলার দক্ষিণপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা এমদাদুল হক ওরফে ভুট্টো, বগুড়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম রতন এবং সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাহনূর আলম শান্ত।
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তাদের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে শাহনূর আলম শান্ত ২০২৬ সালের ১৩ই মার্চ ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এ ছাড়া ২০২৬ সালের ৫ই অক্টোবর আওয়ামী লীগ কর্মী আরিফ হোসেন (৩৫) এবং আব্দুল মালেকের (৫২) মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়। দুজনই অসুস্থ হওয়ার পর জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
