ক্রেমলিনের হুঁশিয়ারিঃ কালিনিনগ্রাদ অবরোধ হলে পারমাণবিক অস্ত্রে জবাব দেবে রাশিয়া

ক্রেমলিনের হুঁশিয়ারিঃ কালিনিনগ্রাদ অবরোধ হলে পারমাণবিক অস্ত্রে জবাব দেবে রাশিয়া
শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কালিনিনগ্রাদ অবরুদ্ধ করা হলে রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে জবাব দেবে, এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছে ক্রেমলিন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, কালিনিনগ্রাদ অবরোধের জবাবে পারমাণবিক প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি রাশিয়ার নীতিনির্ধারণী নথিপত্রে উল্লেখ করা আছে।

 

ক্রেমলিনের মুখপাত্র পেসকভের বক্তব্য

পেসকভ বলেন, কালিনিনগ্রাদ অবরোধের পরিকল্পনা নিয়ে পশ্চিমের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী বক্তব্য রাশিয়া লক্ষ করছে এবং তার জবাব দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পোল্যান্ডসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ কালিনিনগ্রাদ প্রসঙ্গে অনেক বক্তব্য দিয়েছে, যার কিছু বেশ আপত্তিকর। তাই ইউরোপের “উত্তপ্ত মাথাগুলোকে” এ বিষয়ে রাশিয়ার নথির কথা মনে করিয়ে দেওয়াই স্বাভাবিক।

 

দূতাবাসগুলোর সতর্কবার্তা

গত তিন দিনে বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে রাশিয়ার দূতাবাসগুলো বারবার সতর্ক করেছে যে ন্যাটো কালিনিনগ্রাদ অবরোধ করলে মস্কো পারমাণবিক অস্ত্রসহ পুরো অস্ত্রভান্ডার ব্যবহারে প্রস্তুত। ২৮ সেপ্টেম্বর ব্রাসেলসে রাশিয়ার দূতাবাস ন্যাটোর আন্তর্জাতিক সচিবালয় ও বেলজিয়ামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বার্তা দেয়। পরদিন লন্ডনের দূতাবাস জানায়, ব্রিটেন বা ন্যাটো রুশ ভূখণ্ডে সামরিক পদক্ষেপ নিলে পারমাণবিক অস্ত্রসহ সব উপায়ে জবাব দেওয়া হবে।

 

প্রেক্ষাপট

ব্রিটিশ গণমাধ্যম, বিশেষ করে আই পেপারসহ কয়েকটি সংস্থা ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানে ন্যাটোর সম্ভাব্য নৌ ও আকাশ অবরোধের নানা দৃশ্যপট নিয়ে আলোচনার প্রতিক্রিয়ায় রুশ দূতাবাসগুলো এ বিবৃতি দিয়েছে। তবে ন্যাটো এ ধরনের কোনো অবরোধের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেনি। এর মধ্যেই লিথুয়ানিয়া সংবিধান থেকে পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ করার ধারা তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

 

কালিনিনগ্রাদ কেন স্পর্শকাতর

কালিনিনগ্রাদ রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি ছিটমহল, যার সীমান্ত ইইউ ও ন্যাটোর দুই সদস্য লিথুয়ানিয়া ও পোল্যান্ডের সঙ্গে। এখানে রাশিয়ার বাল্টিক নৌবহরের সদরদপ্তর রয়েছে এবং পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ইসকান্দার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন আছে।

হুঁশিয়ারিটি রাশিয়ার পক্ষ থেকে এসেছে। ন্যাটো অবরোধের পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেনি, তবে ঘোষণাও দেয়নি। তাই এটি বাস্তব পরিকল্পনার প্রতিক্রিয়া, না কূটনৈতিক চাপ, তা এখনো অস্পষ্ট। ২০২২ সালেও লিথুয়ানিয়ার ট্রানজিট নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কালিনিনগ্রাদ ঘিরে উত্তেজনা হয়েছিল। তখন ব্রাসেলস বলেছিল লিথুয়ানিয়া নিয়ম মেনেই কাজ করেছে এবং কোনো অবরোধ হয়নি। এবারের ঘটনা ভিন্ন প্রেক্ষাপটের।

 

Visited 13 times, 1 visit(s) today