❐ নিজস্ব প্রতিবেদক
সময় টেলিভিশনের হেড অব নিউজ মুজতবা খন্দকারের বিরুদ্ধে নারী সাংবাদিকদের হয়রানি, পেশাগত সুযোগ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক আচরণ এবং কর্মক্ষেত্রে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলেছেন প্রবাসী সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর।
২৫শে সেপ্টেম্বর, শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে জাওয়াদ নির্ঝর দাবি করেন, মুজতবা খন্দকারের বিরুদ্ধে এর আগেও নারী সাংবাদিককে হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল।
ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর বক্তব্য থাকার পরও সময় টিভি ও প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
জাওয়াদ নির্ঝরের দাবি, কিছুদিন আগে সময় টিভির এক নারী রিপোর্টারকে প্রেজেন্টর বানানোর কথা বলে অফিসের পাশের একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে যান মুজতবা খন্দকার। সেখানে ওই নারীর গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি নিয়ে অফিসে আলোচনা ও হৈচৈ হলেও পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই নারীকে চুপ করিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
পোস্টে আরও দাবি করা হয়, সময় টিভির বেশ কয়েকজন নারী কর্মী মুজতবা খন্দকারের কক্ষ এড়িয়ে চলেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো নারী কর্মীর নাম বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য প্রকাশ করেননি জাওয়াদ।
সাম্প্রতিক আরেকটি ঘটনারও উল্লেখ করেন তিনি।
তার দাবি, গত ২০শে সেপ্টেম্বর দুপুরে এনটিভির এক নারী উপস্থাপককে নিয়ে সময় টিভির চিফ ডিজিটাল অপারেশন সাদ্দাত আলী সাদাফের কক্ষে প্রবেশ করেন মুজতবা খন্দকার। পরে সাদাফ ওই কক্ষে গিয়ে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। এ নিয়ে তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে ভেতর থেকে মুজতবা তাকে কিছুক্ষণ পর আসতে বলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
পরে অন্যরা সেখানে জড়ো হলে মুজতবা খন্দকার ও ওই নারী কক্ষ থেকে বের হয়ে আসেন বলে পোস্টে দাবি করা হয়। এ ঘটনায় সময় টিভির কর্মীদের মধ্যে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন জাওয়াদ নির্ঝর।
একই পোস্টে সাদ্দাত আলী সাদাফের বিরুদ্ধেও নারী সাংবাদিককে কেন্দ্র করে অফিসকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয়েছে। কয়েক মাসে সাদাফ, সংশ্লিষ্ট এক নারী সাংবাদিক ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রমাণসহ অন্তত ১০টি অভিযোগ ই-মেইলে এসেছে বলেও দাবি করেন জাওয়াদ।
জাওয়াদ নির্ঝর তার পোস্টে মুজতবা খন্দকারকে ‘বিএনপিপন্থী’ হিসেবে উল্লেখ করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তোলেন। তবে তার রাজনৈতিক পরিচয় বা রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে নারী হয়রানির অভিযোগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
মুজতবা খন্দকার ও সাদ্দাত আলী সাদাফের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সময় টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, মুজতবা খন্দকার চলতি বছরের জানুয়ারিতে সময় টেলিভিশনের হেড অব নিউজ হিসেবে যোগ দেন। একই সময়ে সাদ্দাত আলী সাদাফ চিফ ডিজিটাল অপারেশন হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দেন।
