❐ স্থানীয় সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কে মধ্যরাতে চলন্ত গাড়ি থামিয়ে সাংবাদিক, সম্পাদক ও ব্যবসায়ী এস. এম. শহীদুল্লাহ রনিকে (৪৬) সরাসরি হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তদের ছোড়া চার রাউন্ড গুলির আঘাত গাড়ির এক পাশ ভেদ করে অন্য পাশে চলে গেলেও, তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা ও ভাগ্যজোরে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছেন তিনি।
২৮শে জুলাই, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার ইছাপুর চারাবটতলা এলাকায় এই রোমাঞ্চকর ও রোমহর্ষক হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শহীদুল্লাহ রনি একসময় ‘বিজয় টিভি’র চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান ছিলেন। বর্তমানে তিনি ‘দৈনিক প্রিয় সময়’ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এবং একাধিক ইটভাটা ও আবাসন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভুক্তভোগী শহীদুল্লাহ রনি জানান, মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর কার্যালয় থেকে তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে রাউজানের নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। হাটহাজারীর চারাবটতলা এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তার গাড়ি লক্ষ্য করে প্রথমে বড় ইট নিক্ষেপ করে গতিরোধের চেষ্টা চালায়। বিপদ আঁচ করতে পেরে রনি সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির হেডলাইট বন্ধ করে গাড়ি থামিয়ে দেন।
ঠিক সেই মুহূর্তেই মোটরসাইকেলে আসা দুই মুখোশধারী অস্ত্রধারী কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই গাড়ির পেছনের সিট লক্ষ্য করে পরপর চার রাউন্ড গুলি ছুড়ে অন্ধকারের মধ্যে দ্রুত সটে পড়ে।
শহীদুল্লাহ রনি জানান, সাধারণত তার ব্যক্তিগত গাড়ি চালকই ড্রাইভ করেন। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে তিনি নিজেই চালকের আসনে ছিলেন। দুর্বৃত্তরা হয়তো ধারণা করেছিল তিনি প্রতিদিনের মতো পেছনের আসনেই বসে আছেন। তাই তারা পেছনের সিট লক্ষ্য করেই নির্বিচারে গুলি চালায়। গুলির শব্দে তিনি চালকের আসনে দ্রুত নিচু হয়ে যান, যার ফলে গুলিগুলো তাকে স্পর্শ করতে পারেনি।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং খবর পেয়ে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ ও হাটহাজারী মডেল থানার পুলিশ টিম দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে।
পুলিশ কর্মকর্তা কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, দুর্বৃত্তরা প্রথমে ইট দিয়ে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করে এবং পরবর্তীতে ৪ রাউন্ড গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগীর সঙ্গে রাউজানের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর পুরনো শত্রুতা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জের ধরেই এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ আরো জানিয়েছে, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা কি না এবং মূল হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে গভীর তদন্ত শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগীকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
