❐ নিজস্ব প্রতিবেদক
কিশোরীর সাথে হোটেল কক্ষে আপত্তিকর অবস্থায় আটক সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে দেশজুড়ে ঢি ঢি পড়ে গেছে। তার ভাবমূর্তি রক্ষায় বট বাহিনী খ্যাত জামায়াত-শিবিরের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট ও গুপ্ত কর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছে কিন্তু সবই ব্যর্থ হয়েছে। ভাবমূর্তি রক্ষা তো হয়নি, উল্টো চরম সমালোচনার মুখে পড়েছে জামায়াতে ইসলামী।
শেষ পর্যন্ত ‘কোল্যাটারাল ড্যামেজ’ হিসেবে গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করতে বাধ্য হলো ‘ইসলামপন্থি’ দল দাবি করা একাত্তরের ঘাতকদের দল জামায়াতে ইসলামী।
সাংগঠনিক তদন্তে গাজী নজরুলের নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা অনুযায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে জানিয়েছে দলটি।
আজ ২২শে জুলাই, বুধবার জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
প্রসঙ্গত, গাজী নজরুল ইসলামের আপত্তিকর ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর বট বাহিনী উঠেপড়ে লেগেছিল ঘটনাটিকে ষড়যন্ত্র হিসেবে সাব্যস্ত করতে। প্রথমে দাবি করা হয় ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। সেটি প্রমাণ করতে না পারায় দাবি করা হয় কিশোরী মেয়েটি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী, এমনকি এর সপক্ষে তার প্রকৃত স্ত্রীও ভিডিও বক্তব্য দিয়ে দাবি করেন- তার স্বামীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এতেও কাজ হয়নি।
পরে সেই কিশোরীর বায়োডাটা প্রকাশ পেলে দেখা যায়, সে অপ্রাপ্তবয়স্ক। এরপর ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে একে-তাকে দায়ী করে নানাবিধ প্রচার প্রচারণা চালায় বট বাহিনী। এমনকি পেছনের তারিখে ভুয়া কাবিননামাও হাজির করা হয়। সেটিও মিথ্যা প্রমাণ করে দেন খোদ বিবাহ নিবন্ধনকারী কাজী। কীভাবে তাকে চাপ দিয়ে রেজিষ্ট্রারে তোলা হয়েছিল মিথ্যা তথ্যগুলো, সেটিও প্রমাণ হয়।
বট বাহিনীর এমন নানাবিধ প্রচেষ্ট-প্রোপাগান্ডা ব্যর্থ হলে শেষ পর্যন্ত বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আসে দল থেকে।
দলের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ বিকেল ৪টায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর মিন্টো রোডস্থ বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আমির শফিকুর রহমান। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
সেখানেই গাজী নজরুলকে সংগঠন থেকে বহিস্কারের বিষয়টি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয়।
