বিশেষ প্রতিবেদক
১৪ জুলাই, ২০২৬
অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মালয়েশিয়ায় নতুন করে ২৯০ জন বাংলাদেশিসহ ৫০৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর এবং অভিবাসনসংক্রান্ত চুক্তির পরও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকায় উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মালয়েশিয়ার ১৮টি ভিন্ন স্থানে একযোগে পরিচালিত এই অভিযানে মূলত অবৈধভাবে বিদেশি কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশিদের মাধ্যমে পরিচালিত ব্যবসাগুলোকে লক্ষ্য করা হয়।
ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান সোমবার (১৩ জুলাই) এক বিবৃতিতে জানান, ইমিগ্রেশন বিভাগ, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ, পুলিশ ও স্থানীয় সরকারের প্রায় ৮৭৬ জন কর্মকর্তা এই যৌথ অভিযানে অংশ নেন। অভিযান চলাকালীন নিয়োগকর্তা ও বিদেশি নাগরিকসহ মোট ২ হাজার ২৬০ জনের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়।
আটককৃতদের মধ্যে বাংলাদেশি ছাড়াও মিয়ানমারের ১০১ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৬৬ জন, নেপালের ৩৮ জন, ভারতের ৩৬ জন এবং অন্যান্য দেশের ১০ জন নাগরিক রয়েছেন। আটকদের মধ্যে ৯৫ জন নারী রয়েছেন। তাদের বয়স ২১ থেকে ৫২ বছরের মধ্যে। সবাইকে পরবর্তী তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য বিভিন্ন ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া, সাক্ষী হিসেবে সহায়তার জন্য আরও ১২০ জনকে বিশেষ নোটিশ (বোরং ২৯) দেওয়া হয়েছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আটকদের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগগুলো হলো:
- বৈধ কাগজপত্র না থাকা
- ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান (ওভারস্টে)
- ভিসার শর্তের অপব্যবহার
উদাহরণস্বরূপ, অনেকের কাছে নির্মাণ খাতের ভিসা থাকলেও তারা কাপড়ের দোকানে কাজ করছিলেন। কয়েকজন ইউএনএইচসিআর কার্ডধারীর কার্ডের সত্যতাও যাচাই করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযান চলছে। সাম্প্রতিক সফর ও চুক্তির পরও এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকায় দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মী ও তাদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। শ্রমিক কল্যাণ সংগঠনগুলো অবিলম্বে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আটকদের সুরক্ষা ও ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
