টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে পাত্তা পেল না বাংলাদেশ। অজি অধিনায়ক মিচেল মার্শের ২৮ বলে ঝড়ো ৬০ রানের ওপর ভর করে বাংলাদেশকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের করা ১০৯ রানের মামুলি লক্ষ্য মাত্র ১১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়েই টপকে যায় সফরকারীরা।
প্রথম দুই ম্যাচ জিতে অস্ট্রেলিয়া আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছিল। চট্টগ্রামে সিরিজের শেষ ম্যাচটিতেও তারা অনায়াস জয় তুলে নেয়।
এর আগে, শুরুতে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া বাংলাদেশের মান বাঁচান ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। তিনি ৫১ বলে ৬১ রান করে অপরাজিত থাকেন।
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া একদমই সময় নষ্ট করেনি। দুই ওপেনার জশ ইংলিশ ও মার্শ প্রথম বল থেকেই বাংলাদেশের পেসারদের ওপর চড়াও হন।
শুরুর এই ঝড়ের মাঝে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। তিনটি কিপটে ওভার বল করার পর তিনি ইংলিশকে (১৭) আউট করেন। বিদায়ের আগে অধিনায়কের সঙ্গে ৫৪ রানের ওপেনিং জুটি গড়েন ইংলিশ।
অন্য প্রান্তে মার্শ তাঁর তাণ্ডব চালিয়ে যান এবং মাত্র ২৩ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের ১৪তম টি-টোয়েন্টি ফিফটি। অবশেষে শরিফুল ইসলাম তাঁকে ৬০ রানে আউট করেন। মার্শের এই ইনিংসটি সাতটি চার ও চারটি ছক্কায় সাজানো ছিল।
এরপর কুপার কনলি রিশাদ হোসেনের বলে আউট হওয়ার আগে করেন ১৫ রান। বাকি কাজটা সহজেই সারেন ম্যাট রেনশ (৬*) ও টিম ডেভিড। ডেভিড মাত্র ৩ বলে দুটি ছক্কাসহ ১২ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
বাংলাদেশের পক্ষে নাসুম, শরিফুল ও রিশাদ একটি করে উইকেট নেন।
এর আগে, হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। কেবল হৃদয় ও রিশাদ হোসেন দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেন, বাকি ব্যাটাররা ছিলেন আসার যাওয়ার মিছিলে।
ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউট হন। দ্বিতীয় ওভারে সাইফ হাসানের একটি স্ট্রেট ড্রাইভ বোলার স্পেন্সার জনসনের হাতে লেগে স্টাম্পে আঘাত করলে ৫ রান করা তানজিদ বিদায় নেন।
সাইফও দ্রুতই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৯ রান করে। পারভেজ হোসেন ইমনও থিতু হতে পারেননি, ১৩ বলে মাত্র ১ রান করে তিনি আউট হলে মাত্র ১১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।
সেখান থেকে এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালান তাওহীদ হৃদয়। নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ ও শরিফুলকে নিয়ে জুটি বেঁধে দলকে একশ পার করান তিনি। তবে এই জুটিগুলোর কোনোটিই ৩০ রানের বেশি হতে পারেনি, কারণ অপর প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়েছে।
শেষ পর্যন্ত হৃদয় ৫১ বলে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন। এটি তাঁর সপ্তম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক হাফ-সেঞ্চুরি।
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে স্পেন্সার জনসন, নাথান এলিস ও অ্যাডাম জাম্পা প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট নেন।
