❐ চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় ৪ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত মনির হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
আজ ২২শে মে, শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু বকর সিদ্দীকের আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, শিশু ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্ত মনির হোসেন আজ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তার জবানববন্দি রেকর্ড শেষে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত মনির কুমিল্লার বাসিন্দা। তিনি বাকলিয়ায় একটি ডেকোরেটর প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। গতকাল আটকাবস্থায় তিনি সাংবাদিকদের কাছে অপরাধ স্বীকার করে বলেন, ‘আমাকে শয়তানে পাইছে। আমি দোষ স্বীকার করছি।’
গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে রাতভর সংঘর্ষ এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ওসি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ২১ জন পুলিশ আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুলিশের ওপর হামলা এবং গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করে মামলা দায়ের কা হবে।
জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় চাকরিজীবী মা-বাবার ৪ বছরের এক কন্যাশিশুকে চকোলেটের লোভ দেখিয়ে ডেকোরেশন দোকানের কর্মচারী মনির পার্শ্ববর্তী একটি গুদামে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে বিকেলের দিকে একটি ভবনের সিঁড়িতে শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় অচেতন পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ অভিযুক্ত মনিরকে আটক করে। পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এ সময় তারা অভিযুক্তকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয়রা সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ধর্ষণের ঘটনাগুলোর কারণে বিক্ষুব্ধ ছিলেন। তাই অভিযুক্ত মনিরকে নিজেদের হাতে শাস্তি দেওয়ার দাবিতে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হন।
একপর্যায়ে পুলিশ অভিযুক্তকে একটি ভবনের ভেতরে নিয়ে যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিক্ষোভকারীরা ভবনের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে এলাকাবাসীকে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার চেষ্টা করে। রাত ৮টার দিকে উত্তেজনা চলার মধ্যে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। তারা এদিক-সেদিক ছড়িয়ে গেলেও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।
এ সময় সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন।
একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে পুলিশ কৌশলে অভিযুক্ত মনিরকে উদ্ধার করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এই সময় স্থানীয় জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ি সূত্র জানায়, শিশুটি হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীর রয়েছে এবং বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
রাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ শিশুটিকে দেখতে হাসপাতালে যান এবং তার পরিবারের পাশে থাকার কথা জানান।
