স্ত্রীর দেওয়া তথ্যে ঘাতক সোহেল সম্পর্কে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

স্ত্রীর দেওয়া তথ্যে ঘাতক সোহেল সম্পর্কে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
শেয়ার করুন

❐ নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজধানীর পল্লবীতে ৭ বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টা করেছে পাশের ফ্ল্যাটের এক দম্পতি—এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন সোহেল রানা (৩৪) এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর–১১ নম্বর সেকশনের একটি বাসার তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, হত্যার পর শিশুটির মাথা বিচ্ছিন্ন করে শৌচাগারে রাখা হয় এবং দেহের বাকি অংশ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার মা তাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খুঁজতে গিয়ে বাসার সামনে এক পাটি জুতা দেখতে পান। এতে সন্দেহ হলে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেন। দীর্ঘ সময় পর দরজা খুললে স্বপ্না আক্তারকে পাওয়া যায়, তবে সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে আলামত সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

পুলিশের ধারণা, অপরাধ গোপন করতে মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করা হয়। তবে শিশুটির মা ঘটনাটি টের পাওয়ায় অভিযুক্তরা পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

পরে সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত দম্পতির বাড়ি নওগাঁ জেলার সিংড়া উপজেলায়।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রামিসা স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে কর্মরত এবং মা পারভীন আক্তার গৃহিণী। দুই বোনের মধ্যে রামিসা ছিল ছোট।

ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বাড়ির সামনে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে এবং পুলিশ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।

পুলিশ জানিয়েছে, সোহেল রানার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে।

ঘটনার পর পুলিশ সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে ফ্ল্যাট থেকেই আটক করে। তবে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে, সোহেল নারায়ণগঞ্জের একটি দোকানে তার বন্ধুর মাধ্যমে পাঠানো টাকা তুলতে গেছে।

তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় পুলিশ ও দোকানদারের সহায়তায় ডিএমপির টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে বিকাশের দোকান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে।

তার আচরণ ও প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে তাকে বিকৃত মানসিকতার ব্যক্তি হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ফরেনসিক রিপোর্টের পর জানা যাবে।

অন্যদিকে, স্বপ্না আক্তার দাবি করেছেন, তিনি ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন এবং ঘটনার বিষয়ে কিছু জানেন না। তবে পুলিশের মতে, দরজা না খোলা ও আসামিকে পালাতে সহায়তার মাধ্যমে তিনি অপরাধে সহযোগিতা করেছেন।

মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Visited 63 times, 1 visit(s) today