সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি:
রাজনীতি ও আন্দোলনের গহীনে লুকিয়ে থাকা এক চরম ষড়যন্ত্র ও প্রতারণার স্বীকারোক্তি দিলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সীতাকুণ্ডের সাবেক সমন্বয়ক ওসমান ফারুক।
গতকাল ১৯ মে তারিখ গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ এবং আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই সংঘাতের পেছনের ‘অন্ধকার চিত্র’ এবং নিজের আত্মদহনের কথা তুলে ধরেছেন। তার এই বিস্ফোরক বক্তব্যে বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
স্বাধীনতা না কি পরাধীনতার শৃঙ্খল?
ওসমান ফারুক তার পোষ্টে উল্লেখ করেন,
“২৪-এর জুলাই মাসে মুনাফিকদের প্ররোচনায় জুলাই দাঙ্গায় নেমেছিলাম স্বাধীনতার আশায়। কিন্তু ৫ই আগস্ট বিকেলেই বুঝতে পারলাম আমরা স্বাধীন হইনি, বরং চরম এক অন্ধকারের দিকে তলিয়ে যাচ্ছি।”
তিনি অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে জানান, যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন তারা দেখেছিলেন, তার বদলে ৫ই আগস্ট বিকাল থেকেই তারা পেয়েছেন এক ‘ধ্বংসযজ্ঞের বাংলাদেশ’।
পতন শেখ হাসিনার নাকি বাংলাদেশের?
সাবেক এই সমন্বয়কের মতে, ৫ই আগস্ট দুপুরে দেশরত্ন শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগের পর তথাকথিত আনন্দ সাধারণ মানুষ করেনি; বরং করেছে বিশেষ কিছু রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী।
তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষ তখন অন্তরে দেশরত্ন শেখ হাসিনার অনুপস্থিতির বেদনা অনুভব করছিল। ওসমান ফারুকের ভাষায়— “পতন শেখ হাসিনার হয়নি—হয়েছে বাংলাদেশের।”
ভুল স্বীকার ও রাজাকারের সঙ্গ ত্যাগ
উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বরও তিনি একটি পোস্টে নিজের ভুল স্বীকার করে ‘ক্ষতি’র কথা বলেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজ আবারও তিনি সোচ্চার কণ্ঠে বলেন, “কিছু রাজাকারের প্ররোচনায় পড়ে নিজেদের নষ্ট করেছি, দেশকে ধ্বংসের মুখে নিয়ে গেছি। আমি আর সেই রাজাকারদের সাথে নেই।”
নেপথ্যে আমেরিকার দাসত্ব ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন— এই আন্দোলন দেশের কল্যাণের জন্য ছিল না। এটি ছিল সুনির্দিষ্ট শেখ হাসিনা এন্ট্রিদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল এবং আমেরিকার দাসত্ব করার একটি সুগভীর ষড়যন্ত্র মাত্র।
দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেওয়ার এই খেলায় নিজের অজান্তেই শামিল হয়েছিলেন বলে তিনি গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেন।
ক্ষমা ও চূড়ান্ত ঘোষণা
নিজের আচরণের জন্য সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন কারোর সাথে খারাপ আচরণ করে থাকলে তিনি ক্ষমা প্রার্থী। তবে তার এই পরিবর্তিত এবং সত্যবাদী অবস্থান যাদের ভালো লাগবে না, তাদের নির্দ্বিধায় তাকে ‘আনফ্রেন্ড’ করার অনুরোধ জানিয়েছেন এই সাবেক সমন্বয়ক।
ওসমান ফারুকের এই স্বীকারোক্তি এখন সীতাকুণ্ড ছাড়িয়ে দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দাঙ্গার নেপথ্যের কারিগরদের আসল চেহারা উন্মোচনের এই দাবি এখন সাধারণ মানুষের মনেও নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
