জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ ফাঁড়ির খাবার পানিতে বিষ: নাশকতার শঙ্কা, নমুনা পাঠানো হলো ল্যাবে

জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ ফাঁড়ির খাবার পানিতে বিষ: নাশকতার শঙ্কা, নমুনা পাঠানো হলো ল্যাবে
শেয়ার করুন

❐ নিজস্ব সংবাদদাতা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর পুলিশ ফাঁড়িতে ব্যবহৃত পানিতে বিষাক্ত পদার্থ মেশানোর অভিযোগ উঠেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে নাশকতার শঙ্কা। সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্য খ্যাত জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ সদস্যের টার্গেট করা হয়েছে কিনা সন্দেহ করা হচ্ছে।

আজ ২৬শে জুলাই, রোববার সকালে পানিতে অস্বাভাবিক সাদা ফেনা ও তীব্র দুর্গন্ধ দেখতে পেয়ে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরে পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়নি। ফলে পানিতে সত্যিই কোনো বিষাক্ত পদার্থ ছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আলীনগর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা প্রতিদিনের মতো পানি পান করতে গেলে গ্লাসে নেওয়া পানিতে সাদা ফেনা ও অস্বাভাবিক গন্ধ লক্ষ্য করেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তারা ওই পানি পান থেকে বিরত থাকেন।

পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলে ঘটনাস্থলে পুলিশ কর্মকর্তারা পৌঁছে পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠান। ফলে সতর্কতার কারণে কোনো পুলিশ সদস্যের শারীরিক ক্ষতি হয়নি।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন।

তার ভাষ্য, পানির নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে কারা বা কী উদ্দেশ্যে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত কোনো তথ্য জানাতে পারেননি।

অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাশকতার আশঙ্কা, তবে অপেক্ষা পরীক্ষার ফলের

ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে নাশকতার আশঙ্কার কথা আলোচনায় এলেও, পানিতে বিষাক্ত পদার্থ মেশানো হয়েছিল কি না কিংবা এটি পরিকল্পিত কোনো ঘটনা কি না—সেসব বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলছে না পুলিশ। তদন্ত ও পরীক্ষাগারের প্রতিবেদনের ওপরই নির্ভর করবে ঘটনার প্রকৃত কারণ।

জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলছে। অতীতে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থাপনায় হামলা, র‍্যাব ক্যাম্পে গুলিবর্ষণ এবং সরকারি স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

তবে বর্তমান ঘটনার সঙ্গে পূর্বের কোনো ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

পুলিশ ফাঁড়ির পানিতে অস্বাভাবিক ফেনা ও দুর্গন্ধের উৎস কী, সেটি এখন তদন্তের মূল বিষয়। পানির রাসায়নিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষ মেশানোর অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

Visited 4 times, 2 visit(s) today