জাতীয় পতাকাবাহক থেকে ‘লুটেরা’: কায়সার হামিদের পতন ও ইতিহাসের নির্মম পরিহাস

জাতীয় পতাকাবাহক থেকে ‘লুটেরা’: কায়সার হামিদের পতন ও ইতিহাসের নির্মম পরিহাস
শেয়ার করুন

বিডি ডাইজেস্ট প্রতিবেদক
যিনি একসময় দেশের জার্সি গায়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন, যার নামের পাশে যুক্ত আছে কিংবদন্তি দাবাড়ু রানী হামিদের উত্তরসূরির তকমা। সেই কায়সার হামিদ আজ এক ভিন্ন কারণে আলোচনায়। তবে কোনো গোল বা ট্রফি জয়ের জন্য নয়, বরং গণভবনে সস্ত্রীক লুটপাটের উল্লাসে মেতে ওঠার লজ্জিত অধ্যায় দিয়ে তিনি নিজেকে নতুনভাবে চিনিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, গণভবনে সাধারণ মানুষের বিশৃঙ্খলা আর কায়সার হামিদের মতো সেলিব্রেটিদের লুটপাট এক বিষয় নয়। একজন আইকন যখন রাষ্ট্রীয় সম্পদে হাত দেন, তখন সেই অপরাধ আর ব্যক্তিগত থাকে না; বরং তা সমাজের চোখে অপরাধকে ‘স্বাভাবিক’ করার লাইসেন্স হয়ে দাঁড়ায়।

৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে কায়সার হামিদের মতো তারকাদের এই নেতিবাচক ভূমিকা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর এক ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, তাদের এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ইন্ডাস্ট্রি লুটপাটের এক সংস্কৃতি তৈরি হয়। থানা, সরকারি অফিস এমনকি বিদেশি হাইকমিশনে হামলার মতো দুঃসাহস দেখানোর রসদ জুগিয়েছে এই তথাকথিত ‘তারকাদের’ কর্মকাণ্ড। সীমা নির্ধারণে ব্যর্থ হয়ে তারা মূলত দেশকে এক দীর্ঘস্থায়ী এনার্কির দিকে ঠেলে দিয়েছেন।

সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে ভারতের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে। দেশে অরাজকতা এবং অস্থিতিশীলতা তৈরির ফলে ভারতের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক এখন তলানিতে। এর প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে গত দুই বছরে কয়েক লক্ষ বাংলাদেশি ভারতের চিকিৎসা ভিসা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

আজ কায়সার হামিদ নিজেই সেই পরিস্থিতির শিকার। নিজের মেয়ের চিকিৎসার জন্য ভারতের ভিসার আশায় যখন তিনি হাহাকার করছেন, তখন প্রশ্ন উঠছে এই পরিস্থিতি কি তার নিজেরই তৈরি করা নয়?

কায়সার হামিদের মতো ব্যক্তিরা যখন নিজেদের কর্মকাণ্ডের সীমা ভুলে লুটতরাজকে প্রশ্রয় দেন, তখন দেশের সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি তাদের নিজেদেরও একসময় চরম মূল্য দিতে হয়। নিজের মেয়ের জীবন বাঁচাতে আজ যে ভিসা জটিলতায় তিনি পড়েছেন, তা মূলত তার এবং তার মতো তথাকথিত আইকনদের সৃষ্টি করা হঠকারী ও আত্মঘাতী রাজনীতিরই ফসল।

পরিশেষে, তার কন্যার সুস্থতা কাম্য হলেও, কায়সার হামিদের মতো জাতীয় ব্যক্তিত্বদের এই নৈতিক পতন ইতিহাসের পাতায় এক কলঙ্কিত অধ্যায় হয়েই থাকবে।

Visited 37 times, 1 visit(s) today