বিডি ডাইজেস্ট প্রতিবেদন
স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি ও সেচ ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক নথি ও তৎকালীন সংবাদপত্রের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশে পরিকল্পিতভাবে খাল খনন ও পুনঃখনন প্রকল্পের প্রকৃত সূচনা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই।
১৯৭৫ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফরিদপুর অঞ্চলের চন্দনা-বারাশিয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি ছিল তৎকালীন সময়ের একটি বৃহৎ সেচ উদ্যোগ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু কোনো আনুষ্ঠানিকতার বেড়াজালে সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মিশে যান এবং নিজ হাতে মাটি কেটে প্রতীকীভাবে দেশব্যাপী এই কর্মসূচির সূচনা করেন।
১৯৭৫ সালের ৪ মার্চ তৎকালীন সংবাদপত্রের শিরোনামগুলোতে বঙ্গবন্ধুর এই উদ্যোগের প্রতিফলন ঘটে। সে সময় পত্রিকাগুলোতে প্রধান শিরোনাম ছিল— “নিজ হাতে মাটি কুপিয়ে তুললেন তিনি বালুডুতে” এবং “চন্দনা-বারাশিয়া খাল প্রকল্প উদ্বোধন”। এছাড়া উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “সমাজের সর্বস্তর হইতে দুর্নীতি উচ্ছেদ করিতে হইবে”।
বঙ্গবন্ধু কেবল খাল খননেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং নদ-নদীর নাব্যতা রক্ষায় ১৯৭৩ সালেই নদী ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করেন। ১৯৭২ সালে নেদারল্যান্ডস সরকারকে বন্ধুত্বের স্মারক হিসেবে ২টি ড্রেজার উপহার দিয়েছিল। ড্রেজিংয়ের গুরুত্ব উপলব্ধি করে ১৯৭৫ সালে তিনি আরও ১১টি ড্রেজার ক্রয়ের নির্দেশনা দেন।
বঙ্গবন্ধু সরকারের শাসনামলে বাগেরহাট জেলায় ৬ কিলোমিটার খাল খনন, ৩১ কিলোমিটার মংলা নৌ-পথ ড্রেজিং এবং গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-আরিচা নৌপথে ড্রেজিং কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল।
দীর্ঘদিন ধরে একটি রাজনৈতিক মহলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, খাল খনন কর্মসূচির প্রবর্তক মেজর জিয়াউর রহমান। তবে ১৯৭৫ সালের ৪ মার্চের সংবাদপত্রের প্রতিবেদন এবং চন্দনা-বারাশিয়া প্রকল্পের দালিলিক প্রমাণ নিশ্চিত করে যে, স্বাধীনতার পর এই কর্মসূচির প্রকৃত স্বপ্নদ্রষ্টা ও উদ্যোক্তা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার গৃহীত এই বহুমুখী সেচ ও নৌ-পথ উন্নয়ন পরিকল্পনাই পরবর্তীতে বাংলাদেশের কৃষি বিপ্লবের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
