শ্বেতা ইরিনা
বাংলাদেশের ইতিহাসে শুধু আগস্ট বা গত বছরের জুলাই নয়। নভেম্বরও প্রবল করুণ, অপরিমেয় নিষ্ঠুরতা ও অনন্ত বিষাদের এক মাস। জেলহত্যা দিবসের ঠিক আগের দিন (২রা নভেম্বর) যখন বিডি ডাইজেস্ট’-এর পক্ষ থেকে দিনটি উপলক্ষ্যে লেখা চাওয়া হলো, একটি লেখা শুরু করে এবং অনেকটা লেখার পরও কম্পিউটারের কী এক ঝামেলায় গোটা লেখাটি হারিয়ে গেলো। তারপর নতুন করে আবার লিখতে যাওয়া হলো না।
গত একটি বছর ধরে এদেশে একাত্তরপন্থী প্রতিটি মানুষ অর্থনৈতিক ভাবেও যে কী অনিঃশেষ সংগ্রামের ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন তা’ বলার অপেক্ষা রাখে না। বহু মানুষ আদর্শগত কারণে কাজ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন এবং নতুন কর্ম খোঁজা বা পাবার পথেও পদে পদে বাধা বা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন। ঘরের খেয়ে বনের মোষ আর কতই বা তাড়ানো যায়?
এভাবে ৩রা নভেম্বর পার হতে না হতে এলো তথাকথিত ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ বা ৭ই নভেম্বর। ১৯৭৫ সালের যে দিনটি বাংলাদেশে প্রগতিশীল শক্তি পুরোপুরি হেরে গেছিলো প্রতিক্রিয়াবাদীদের হাতে- ১৯৩৭ সালের ৯ই নভেম্বর জন্ম নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীর প্রতীক খালেদ মোশাররফ ৩রা নভেম্বর ১৫ই আগস্টের ঘাতক ও প্রতারকদের প্রধান খন্দকার মোশতাককে সরিয়ে শেষবারের মত মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে নেবার চেষ্টা করছিলেন।
মাত্র আটত্রিশ বছর বয়সে এবং জন্মদিনের দু’দিন আগে তথাকথিত ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’-এ বা ৭ই নভেম্বর বামপন্থী’ কর্নেল তাহেরের নির্দেশনায় নিহত হন বীর প্রতীক খালেদ মোশাররফ। তাঁর সাথে আরো নিহত হন লেফটেন্যান্ট কর্নেল এটিএম হায়দার এবং কর্নেল নাজমুল হুদা। বীর প্রতীক খালেদ মোশাররফের এই হেরে যাওয়া ছিল যেন ‘ইলিয়াড’-এ ট্রোজান বীর হেক্টর বা ‘মহাভারত’-এ মহান বীর কর্ণের মৃত্যুর মত করুণ ও তীব্র হাহাকার জাগানিয়া। ৩রা নভেম্বর জেলখানায় জাতীয় চার নেতার হত্যার পর ৭ই নভেম্বর এই বীর সৈন্যদের হত্যা- নভেম্বর তাই এক অনন্ত হত্যা, প্রতারণা ও ক্রন্দনের মাস- বাঙ্গালীর জন্য।
আজ যখন এক কিশোরের ব্যাগে বত্রিশ নম্বরের ধ্বংসস্তপের ইটের টুকরো ও মুক্তিযুদ্ধের দু’টো বই থাকার অপরাধে গ্রেপ্তার করা হলো এই রাজাকার পাকিস্থানপন্থীদের বাংলাদেশে, লাজুক কিশোর কৈশোরের তন্ময় সৌন্দর্যের অপাপবিদ্ধতায় বললো যে সে পুরাতাত্ত্বিক নানা ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহ করে- হে বালক বীর- গত আগস্টের পাঁচ তারিখ আমরা সব শিল্প-সাহিত্য-পুরাতত্ত্ব-সঙ্গীত সব কিছু বিসর্জন দিয়ে বর্বরতাকেই একমাত্র আরাধ্য হিসেবে আলিঙ্গন করেছি- তবু তোমার সরল চোখের অভীত প্রত্যয় আমাদের এই বিপর্যয়ের মূহুর্তেও আশা যোগায়। এবং ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো একজন হিসেবে জীবনে টিকে থাকার লড়াই বাদ দিয়ে আবার কীবোর্ডে বাংলা অক্ষর লিখতে শুরু করি।
আসছে ১৭ তারিখে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় রূপকথার সাফল্য আনা নারীকে আমরা গণহত্যার দায়ে শাস্তি দেব। ঢাকা ভার্সিটির টিএসসি-তে গেলে জননীত‚ ল্যা ভগিনীর ‘ডাইনী’ হিসেবে আঁকা ছবি দেখতে হয়। অথচ, তাঁরই হাতে গড়া মেট্রো রেলে চড়ছে সবাই- ভার্সিটি ক্যাম্পাসেই। পদ্মা সেতুও তাঁরই হাতে গড়া। এই করুণ, কালো নভেম্বর নিয়ে লিখতে গিয়ে আসুন আগে শুরু করি জেল হত্যা দিবস দিয়েই:
জেল হত্যা দিবস: এক অসমাপ্ত গানের বেদনা
‘’অন্তিম ঊষার অস্ফুট আলোয়
আমি দেখব আমার বন্ধুদের, তোমাকে দেখব
আমার সঙ্গে কবরে যাবে
শুধু আমার
এক অসমাপ্ত গানের বেদনা।‘’
এভাবেই ’জেলখানার চিঠি’-তে লিখেছিলেন তুর্কি কবি নাজিম হিকমেত। ইংরেজিতে এই কবিতার শিরোনাম অবশ্য ‘লেটার টু মাই ওয়াইফ।’ আর বাংলায় এই কবিতারই অনবদ্য অনুবাদ করেছেন প্রয়াত কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়। ’জেলখানার চিঠি’ নামে।
গত ৩রা নভেম্বর ছিল ইতিহাসের মর্মান্তিক জেল হত্যা দিবস। পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্ট সপরিবারে স্বাধীণ বাংলাদেশের বীজমন্ত্রের উদ্গাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মাধ্যমে যে ঘোর তমসাকীর্ণ রাত্রির সূচনা হয়েছিল, জেল হত্যা দিবস যেন তারই এক সম্প্রসারিত রূপ- যখন নিঃসীম অন্ধকারের ভেতর শ্মশানে ডেকে উঠেছিল যত নিশাচর পাখি আর শকুন ও গৃধিনীরা এই জনপদে নেমে এসেছিল তাদের করাল পাখায় ভর করে। রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সেদিন তার পাপের ভরা পূর্ণ করেছিল। এ এমন এক অমোচনীয় পাপ যার কোন প্রায়শ্চিত্ত হয় না, যার কোন ক্ষমা কখনোই সম্ভব নয়।
আজ থেকে ঠিক পঞ্চাশ বছর আগে- ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর ভোরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা করা হয় মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর তাঁর ঘনিষ্ঠ এই চার সহকর্মীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বঙ্গবন্ধুর নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডে আমূল বদলে যায়। প্রবাসী দুই আত্মজা ছাড়া তাঁর পুত্ররা সবাই নিহত হয়। এরপর গোটা দেশ জুড়েই এক দীর্ঘ সময় জুড়ে হত্যা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু হয়। সত্যি বলতে কারাগারের ভেতর নিরপরাধ বন্দিকে হত্যা করার এমন ঘটনা এর আগে আর ঘটেছিল ১৯৫০ সালের ২৪শে এপ্রিল রাজশাহী কেন্দ্রিয় কারাগারের খাপড়া ওয়ার্ডে। কারাবন্দিদের উপর ছোঁড়া গুলিতে ৭ জন কম্যুনিস্ট নিহত হওয়া ছাড়াও ৩২ জন গুরুতরভাবে আহত হন। সেই পাকিস্থান পর্বের হত্যার রাজনীতিরই পুনরাবৃত্তি ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের কারাগারে- ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর।
প্রতারক খন্দকার মোশতাক: কর্ডেলিয়া বাবাকে ‘লবণের মত’ ভালবাসতে চেয়েছিল!
শেক্সপীয়রের কিং লীয়ার পৃথিবীজোড়া মানুষকে মুগ্ধ করে রেখেছে আজ বহু শতাব্দী। এই নাটকে এক গুরুতর শিক্ষণীয় বিষয় আছে। কিং লীয়ার তাঁর তিন মেয়েকে প্রশ্ন করেছিলেন যে তাঁরা বাবাকে কতটা ভালবাসে? বড় দুই মেয়ে রিগান ও গনেরিল বলেছিল যে বাবাকে তারা চিনির মত ভালবাসে। সত্যবাদী ছোট মেয়ে কর্ডেলিয়া বলেছিল যে বাবাকে সে ‘লবণের মত’ ভালবাসে। নাটকের বাকি আখ্যান সবাই জানেন। অতি স্তবকারী দুই মেয়ের প্রতি মহা তুষ্ট রাজা তাঁর গোটা রাজ্য বিলিয়ে দিয়ে, ছোট মেয়েকে যৌতুক ছাড়াই বিয়ে দেন এবং ফরাসী রাজকুমার কর্ডেলিয়ার সততায় মুগ্ধ হয়ে বিনা যৌতুকেই তাকে বিয়ে করে। রাজ্য পেয়েই দুই মেয়ে বৃদ্ধ পিতাকে প্রচুর অপমান করে এবং শেষমেশ বৃদ্ধ বাবাকে আশ্রয় পেতে হয় ছোট মেয়ে কর্ডেলিয়ার কাছেই। বাবার রাজত্ব পুনরুদ্ধারের যুদ্ধে কর্ডেলিয়া অবশ্য জয়ী হয় না। মৃত ছোট মেয়ের শবদেহ হাতে লীয়ারও শোকে মারা যান।
চাটুকার মোশতাকও বঙ্গবন্ধুর অনেক অনুগ্রহভাজন হয়েও মুজিব হত্যাকাণ্ডের হত্যাকারীদের সাথে হাত মেলাতে তার এতটুকু দ্বিধা হয়নি। মূলতঃ মোশতাক এই ষড়যন্ত্রের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিল। এমনকি মুজিব কেবিনেটের সংখ্যালঘু সদস্য তথা তদানীন্তন আইনমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধরেরও এতটুকু বিকার হয়নি। কোন অনুশোচনাই হয়নি মুজিবের হত্যাকারীদের সাথে হাত মিলিয়ে পুনর্বার মন্ত্রীত্বের স্বাদ নিতে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের যেন শাস্তি না দেয়া যায়, সেজন্য ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ প্রণয়নের আশ্বাসও খন্দকার মোশতাককে মনোরঞ্জন ধরেরই দেওয়া।
পাশাপাশি মুজিব কেবিনেটে শেষ পর্যন্ত না থাকলেও তাজউদ্দিন এবং অন্য তিন জাতীয় নেতা কিন্ত বঙ্গবন্ধুর প্রতি তাঁদের আনুগত্য জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে শোধ করলেন। আমি ঠিক কল্পনা করতে পারিনা যে পাকিস্থানের কারাগারে বন্দি থাকা ও তীব্র অত্যাচারে জর্জরিত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বুকে নিয়ে যে চার জাতীয় নেতা নয় মাসব্যপী প্রতি মূহুর্তের তিলে তিলে তিতিক্ষা-ধৈর্য্য-পরিশ্রম ও সঙ্কল্পে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তাঁদের যখন জেলখানার শিকের ভেতরে গুলি করা হলো, তখন কি নাজিম হিকমেতের কবিতার নায়কের মত তাঁরাও বলেছেন:
‘দড়ির এক প্রান্তে দোদুল্যমান শবদেহ
আমার কাম্য নয় সেই মৃত্যু।
কিন্তু প্রিয়তমা আমার, তুমি জেনো
জল্লাদের লোমশ হাত
যদি আমার গলায়
ফাঁসির দড়ি পরায়
নাজিমের নীল চোখে
ওরা বৃথাই খুঁজে ফিরবে ভয়।‘
ইতিহাসের সব নৃশংসতাকে ছাড়িয়ে চার জাতীয় নেতাকে যখন জেলের ভেতর হত্যা করা হয়, তাঁদের কালো চোখে ঘাতকেরা কী বৃথাই খুঁজে ফিরেছিল ভয়?
তথাকথিত ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস
ঢাকা ভার্সিটি ক্যাম্পাসে এখন অপরাজেয় বাংলার সামনে বিশাল করে ৭ই নভেম্বর– বিপ্লব ও সংহতি দিবস লেখা ব্যানার টাঙানো। বাস্তবে এই দিন মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের পক্ষে, ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বরের শেষ পাল্টা অভ্যুত্থানকে হারিয়ে দেওয়া হয়। ঠিক যেমন সোভিয়েত ইউনিয়নে ১৯৯১ সালের আগস্টে সমাজতন্ত্রের স্বপ্নকে টিঁকিয়ে রাখতে বদ্ধপরিকর নেতা ও তদানীন্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের উপ-রাষ্ট্রপতি গেন্নাদি ইয়ানায়েভের নির্দেশে সিআইএ-র দালাল গর্বাচেভকে তার গ্রামের বাড়ি বা ’দাচা’-য় আটক করা হয়েছিল।
তবে, ইতিহাসে এমন কালো মূহুর্তও আসে যখন প্রতিক্রিয়ার অন্ধকার শক্তিই জয়ী হয়। বীর ইয়ানায়েভ তাঁর জয় ধরে রাখতে পারেননি। তাসের ঘরের মত টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন- পৃথিবী হয়ে উঠলো মার্কিনিদের একক লীলাক্ষেত্র।
একইভাবে ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত খন্দকার মোশতাককে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে এবং মুজিব হত্যায় দায়ী সেনা অফিসারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার লক্ষ্যে সক্রিয় হয়ে, একটি পাল্টা অভ্যুত্থান করতে পেরেছিলেন বীরপ্রতীক মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধে ’কে’ সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফ। কিন্ত প্রতিক্রিয়াশীলদের নেকড়ে দাঁত ছিল আরো বেশি ধারালো। কর্নেল তাহের ‘বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা’-কে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে খালেদ মোশাররফকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেন, হত্যা করেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল এটিএম হায়দার এবং কর্নেল নাজমুল হুদাকেও।
যেন বা গ্রিক ট্র্যাজেডির আখ্যান পূর্ণ হলো- প্রবঞ্চিত কর্ণের হাহাকারে শোকস্তব্ধ হলো রণক্ষেত্র! তাহেরকেও উত্তরে ফাঁসিতে ঝোলালেন- হ্যাঁ, যে জিয়াকে এক পা হারানো তাহের জেলখানা থেকে মুক্ত করেছিলেন- সেই জিয়া স্বয়ং।
ত্রিশ নম্বরের ইটের টুকরো কুড়ানোয় গ্রেপ্তার কিশোর: ’বালক বীরের বেশে তুমি করলে বিশ্বজয়’
রবীন্দ্রনাথ তাঁর বসন্ত বন্দনার গানে লিখেছিলেন ’বালক বীরের বেশে তুমি করলে বিশ্ব জয়/এ কী গো বিষ্ময়!’ এই গানটি শুনতে শুনতে ভাবতাম যে কে সেই বালক বীর? সে কি উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের রাজপথে পোড়া টায়ারের সামনে ক্ষুব্ধ শিশুটি অথবা কিশোর ক্ষুদিরাম- কে? আজ উত্তর পেয়ে গেলাম। বত্রিশ নম্বরের সামনে থেকে একটি ইটের টুকরো এবং ব্যাগে দুটো মুক্তিযুদ্ধের বই থাকার অপরাধে গ্রেপ্তার হলো যে নবম শ্রেণির কিশোর, সে আমাকে আবার আজ সন্ধ্যায় টেনে আনলো লেখার টেবিলে। অথচ, গত বছর পুলিশ হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা এক শিবিরকর্মীর মানবাধিকার রক্ষায় আকাশে বাতাসে ছিল ক্রন্দন-ধ্বনি!
আশার কথা এই যে বরগুণায় তথাকথিত জুলাই স্তম্ভে আগুন ধরানো হয়েছে। কিন্ত এক মতাদর্শিক সহযোদ্ধা হোয়াটসঅ্যাপে একাধিক সংখ্যালঘু নর-নারীর সহসা মৃত্যুর লিঙ্ক পাঠালেন। নিজে তিনি সংখ্যাগুরুই।
দেয়ালে যখন পিঠ ঠেকেই গেছে, তখন শেষ যুদ্ধটা লড়া-ই যাক। তিন মাসের ভেতর বাংলাদেশে খাদ্য সঙ্কট দেখা দেবে। খোদ জাতিসংঘ এখন তথাকথিত জুলাই বিপ্লব/অভ্যুত্থানকে বলছে সিভিক আনরেস্ট। আসুন- সবাই দেশটাকে পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে নামি। হ্যাঁ, এই কালো ও নিষ্ঠুর নভেম্বরেই।
১৪ই নভেম্বর, ২০২৫
