‘গরীব যাবে কোথায়’, চিকিৎসা নিয়ে ক্ষোভ কায়সার হামিদের

‘গরীব যাবে কোথায়’, চিকিৎসা নিয়ে ক্ষোভ কায়সার হামিদের
শেয়ার করুন

❐ নিজস্ব প্রতিবেদক


কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা হামিদ লিভারজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। তার অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হওয়ায় আজ ১১ই মে, সোমবার বিকেলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতের চেন্নাই নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বাবা, জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার কায়সার হামিদ।

কারিনা হামিদ ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন। কয়েকদিন ধরে তিনি জ্বরে আক্রান্ত হন। শুরুতে বিষয়টিকে সাধারণ অসুস্থতা মনে করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তিনি হেপাটাইটিস এ-তে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে জটিলতা আরও বাড়তে থাকলে লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। গত ২রা মে থেকে তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং গত শুক্রবার তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

কারিনার বাবা কায়সার হামিদ জানান, দেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের যথাযথ চিকিৎসাব্যবস্থা না থাকায় এখন বাধ্য হয়ে মেয়েকে বিদেশে নিয়ে যেতে হচ্ছে।

তার ভাষায়, “আমি জানতাম না, আমাকে যদি শুরুতেই বলা হতো আমাদের দেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের যথাযথ চিকিৎসা নেই, তাহলে প্রথম দিনই তাকে দেশের বাইরে নিয়ে যেতাম। এখন এত দেরিতে বলা হচ্ছে।”

তিনি ইতিমধ্যে চেন্নাইয়ের কয়েকটি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্সেই কারিনাকে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।

 

বাংলাদেশে লিভার প্রতিস্থাপন চিকিৎসা

আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশে লিভার প্রতিস্থাপনের (ট্রান্সপ্লান্ট) চিকিৎসা সহজলভ্য হয়ে উঠেছে বিগত কয়েক বছর ধরে।

 

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে বিডি ডাইজেস্ট জানতে পেরেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এবং বারডেম হাসপাতালে সফলভাবে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট চিকিৎসা করা হচ্ছে। ২০-২৫ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকায় এই জটিল সার্জারি সম্পন্ন হচ্ছে, যা বিদেশের তুলনায় অন্তত ৫ গুণ কম খরচে। বিদেশে এ খরচ অন্তত ১ কোটি টাকা। মূলত লিভিং ডোনার (পরিবারের সদস্য) থেকে লিভার নিয়ে এই প্রতিস্থাপন করা হয়।

 

দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিএসএমএমইউ হাসপাতালে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ হয়েছেন, ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের পূর্ব পর্যন্ত এমন অনেক সাফল্যের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি বিভিন্ন সময় প্রকাশিত গণমাধ্যমের তথ্য বলছে, বিদেশি অনেক নাগরিকও কম খরচে লিভারের চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশে এসে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন।

 

চিকিৎসার ব্যয় ইতিমধ্যে কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে জানান কায়সার হামিদ। পরিস্থিতি তার সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে বলেও স্বীকার করেন তিনি। মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে জমি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি কারিনার বন্ধু ও ভক্তরাও এগিয়ে এসেছেন সহযোগিতার হাত নিয়ে।

কায়সার হামিদ সরকারের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন, কিন্তু এখনও কোনো সাড়া পাননি।

তিনি জানান, “আমিনুলকে (ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল ইসলাম) জানিয়েছি, ও সম্ভবত দেশের বাইরে। প্রধানমন্ত্রী হয়তো জেনেছেন। অপেক্ষা করছি।”

কায়সার হামিদ বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন, দেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন। আমি না হয় জমি বিক্রি করছি, ওর বন্ধুরা, ভক্তরা পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু গরিবরা তাহলে কোথায় যাবে?”

Visited 38 times, 1 visit(s) today