❐ চট্টগ্রাম ব্যুরো
দেশে হামের মহামারি এখন এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। ইউনিসেফের বারবার দেওয়া সতর্কবার্তাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের চরম উদাসীনতার চড়া মূল্য দিচ্ছে দেশের হাজার হাজার কোমলমতি শিশুরা।
সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৩৩৬ জনে পৌঁছেছে, আর আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪৫ হাজার ৪৯৮ জন।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ থেকে কয়েকবার হামের সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাব নিয়ে সরকারকে বারবার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ ও নীতিনির্ধারকরা টিকাদান কর্মসূচি বা আগাম সতর্কতামূলক কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এই প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে এখন সাধারণ মানুষ ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করছে।
বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে। দেশের শত শত শিশু যখন বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে, তখন সংসদের অধিবেশনে এই জাতীয় সংকট নিয়ে কোনো কার্যকর আলোচনা বা সমাধান খুঁজে বের করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। উল্টো দায়ীদের সুরক্ষা প্রদান এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় চরম ঢিলেমি লক্ষ করা গেছে।
এই শিশু হত্যার বিচারের দাবিতে ৮ই মে, শুক্রবার বিকেলে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের প্রেসক্লাব চত্বরে সাধারণ জনগণ এক প্রতিবাদী মানববন্ধনের আয়োজন করে। বিক্ষুব্ধ জনতা সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের চরম ব্যর্থতাকে দায়ী করে তাদের বিচারের দাবি জানান।
তবে এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বাধা প্রদান করে গুপ্ত সংগঠন শিবির ও এনসিপির একদল উগ্রবাদী নেতাকর্মী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সাধারণ মানুষ যখন তাদের সন্তানদের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার চাইছিল, তখন রাজনৈতিক শক্তিবলে সেই কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হয়।
এই ঘটনায় চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ ও নাগরিক সমাজ এই ন্যক্কারজনক হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের এই বিস্তার রোধে এখনই জাতীয় পর্যায়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা প্রয়োজন। একদিকে হাসপাতালের বেড খালি নেই, অন্যদিকে রাজপথে জনগণের প্রতিবাদ দমনের চেষ্টা চলছে। শিশুদের প্রাণের চেয়ে রাজনীতি বড় হয়ে ওঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি তীব্র বিতৃষ্ণা তৈরি হয়েছে।
