পানিতে ডুবছে কৃষকের ১২০০ হেক্টর জমির বোরো ধান

পানিতে ডুবছে কৃষকের ১২০০ হেক্টর জমির বোরো ধান
শেয়ার করুন

বিডি ডাইজেস্ট প্রতিবেদন
টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে অন্তত ১২০০ হেক্টর বোরো ধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে জেলার কৃষকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।

টানা বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে, যার ফলে কাঁচা বোরো ধান ডুবে গিয়ে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১২টি উপজেলায় এখন পর্যন্ত এক হাজার ১৮৯ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের দড়িয়াবাজ গ্রামের কৃষক মো. আলাউদ্দিন বলেন, তিনি ৩৫ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন, যার বেশিরভাগই ইতোমধ্যে পানির নিচে চলে গেছে। ঋণ নিয়ে চাষ করা এই ফসল নষ্ট হলে পরিবার নিয়ে বিপদে পড়তে হবে বলে জানান তিনি।

একই এলাকার কৃষক মুক্তার আলী অভিযোগ করেন, হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য উতারিয়া বাঁধে স্লুইসগেট না থাকায় প্রতি বছরই তারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এ বছর ধান পাকানোর আগেই পানিতে তলিয়ে গেছে।

কৃষক নুর আহমদ জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ করে চাষাবাদ করেছেন। এখন ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দড়িয়াবাজ এলাকাসহ আশপাশের অন্তত ১৮টি গ্রামের শতাধিক হেক্টর জমির বোরো ধান ইতোমধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোমর সমান, কোথাও তার চেয়েও বেশি পানি জমে রয়েছে।

শুধু দেখার হাওরই নয়, জুয়ালভাঙ্গা, কানলার হাওরসহ জেলার মধ্যনগর, ধর্মপাশা, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, শান্তিগঞ্জ ও দিরাই-শাল্লা উপজেলাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে নিজেরাই বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করছেন, যা নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে উত্তেজনার ঘটনাও ঘটছে।

হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের নেতারা বলছেন, অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কারণেই জলাবদ্ধতা বেড়েছে এবং প্রায় ৩০ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে পানির নিচে চলে গেছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জানান, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণে হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকদের নিজ উদ্যোগে বাঁধ না কাটার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পানি দ্রুত অপসারণ করা না গেলে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে, যা কৃষকদের জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

Visited 14 times, 1 visit(s) today