ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আরও তীব্র

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আরও তীব্র
শেয়ার করুন

❐ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‘এখন আলোচনার কোনো ইচ্ছা নেই’—ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী; যুদ্ধ শেষের কাছাকাছি দাবি যুক্তরাষ্ট্রের, তবুও অব্যাহত হামলা ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠছে গভীর মতপার্থক্য। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, তাদের সামরিক অভিযান প্রায় লক্ষ্য অর্জনের পথে, তবে ইরান সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়ে দিয়েছে যে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো আলোচনায় বসার প্রশ্নই ওঠে না।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, দেশটি আপাতত আত্মরক্ষার কৌশলেই এগোবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।

তিনি উল্লেখ করেন, গত কয়েকদিনে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে বার্তা পাঠালেও সেগুলোকে তিনি কোনোভাবেই আনুষ্ঠানিক সংলাপ বা আলোচনার অংশ হিসেবে দেখছেন না।

তার মতে, এসব যোগাযোগ কেবল অবস্থান জানানো ও সতর্কবার্তা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

অন্যদিকে, হোয়াইট হাউজ দাবি করছে যে ইরানের সঙ্গে “গঠনমূলক যোগাযোগ” চলছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানের দিকে এগোচ্ছে।

প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান পরিকল্পনার তুলনায় এগিয়ে রয়েছে এবং তেহরান সরকার একটি “সম্মানজনক বের হওয়ার পথ” খুঁজছে।

তবে তিনি সম্ভাব্য ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি, বরং এটিকে আংশিকভাবে অনুমাননির্ভর বলে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে ইরান যুদ্ধ বন্ধে কিছু শর্ত প্রস্তাব করেছে বলে জানা গেছে, যার মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে সংঘাতের অবসান এবং ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ। তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

একই সময়ে আরাঘচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত বিভিন্ন ধারণা দেশের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে এ বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।

মাঠপর্যায়ে সংঘর্ষ থামার কোনো লক্ষণ নেই। ইসরায়েলের একটি বিদ্যুৎ স্থাপনায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে, আর তেহরানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তার শব্দ শোনা গেছে।

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ফলে একটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লাগার ঘটনাও এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যদিও এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক মহলেও এই সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, চলমান পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের জীবনে গভীর অনিরাপত্তা সৃষ্টি করছে এবং তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে প্রধান সংকট হলো উভয় পক্ষই নিজেদের শর্তে যুদ্ধ শেষ করতে চায়, ফলে কূটনৈতিক সমাধানের পথ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চিত রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে দ্রুত সমাপ্তির আশাবাদ ব্যক্ত করছে, সেখানে ইরানের কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। এর ফলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।

Visited 7 times, 1 visit(s) today