খালের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

খালের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
শেয়ার করুন

বিডি ডাইজেস্ট প্রতিবেদন
সেবা নয়, বরং ৫ আগস্ট পরবর্তী ‘দখলদারিত্বের’ ভাগবাটোয়ারা নিয়ে এবার কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় রাজপথে নামল বিএনপির দুই পক্ষ। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের দক্ষিণ খামা গ্রামে খাল খনন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও দেশীয় অস্ত্রের মহড়া চলেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জনকল্যাণের দোহাই দিয়ে নাটক সাজালেও মূলত খালের টেন্ডার দখল এবং অল্প সময়ে ‘কাঁচা টাকার’ মালিক হওয়ার নেশায় উন্মত্ত হয়ে উঠেছে প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের একটি অংশ। ৫ আগস্টের পর থেকে শুরু হওয়া কাঁচা টাকা ভোগদখলের যে সংস্কৃতি এলাকায় জেঁকে বসেছে, এই সংঘর্ষ তারই নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।

ঘটনার মূলে রয়েছেন কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নেতা খন্দকার আল আশরাফ মামুনের সমর্থকরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোলডুবা-খামা সংযোগ খাল খননের নামে দুই পক্ষই আসলে নিজেদের পেশিশক্তি ও আধিপত্য জাহির করতে মরিয়া।

খন্দকার আল আশরাফ মামুনের পক্ষের নেতা আজিজুল হাকিম মীর দাবি করেন, তারা যখন স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছিলেন, তখন সংসদ সদস্যের সমর্থকরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তাদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, ইউনিয়ন বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি খুর্শীদ উদ্দিন এবং ছাত্রদল সভাপতি রবিউল আলমের দাবি ভিন্ন। তারা বলছেন, মামুন গংরা আসলে নিজেদের জমি বাঁচানোর জন্য খাল কাটার ভান করে ছবি তুলে প্রচারের ধান্দা করছে। তাদের দাবি, সংসদ সদস্যের অনুসারীরাই বরং হামলার শিকার হয়েছেন।

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস এবং থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনের বক্তব্য। তিনি কৌশলে দায় এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “আমার কোনো লোকজন এখানে নেই। এই খাল খনন না, বোধ হয় পরিষ্কার করা হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনও জানে না, আমিও জানি না।” অথচ স্থানীয় জনতা সরাসরি এমপির নাম ভাঙিয়েই মাঠে মহড়া দিতে দেখেছে তার অনুসারীদের।

পাকুন্দিয়ার সাধারণ মানুষের মতে, বিএনপির এক শ্রেণির প্রভাবশালী নেতা এখন জনস্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত টেন্ডার ও ‘কুইক মানি’র নেশায় মত্ত। ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দ্রুত বিত্তবান হওয়ার এই অশুভ প্রতিযোগিতা এলাকার শান্ত পরিবেশকে বিষিয়ে তুলছে।

Visited 6 times, 1 visit(s) today