মেয়েদের এশিয়ান কাপে অভিষেক ম্যাচে চীনের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন লড়াইকে বড় করে দেখছেন কোচ পিটার বাটলার। তাঁর মতে, নয়বারের চ্যাম্পিয়নদের আটকে দিয়ে সিডনির মাঠে বাংলাদেশ নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ দিকে দুবার মনোযোগ হারিয়ে গোল হজম করে বাংলাদেশ। পিটার বাটলার স্বীকার করেছেন, এক সময় মনে হচ্ছিল ম্যাচটি হয়তো হাতের বাইরে চলে যাবে, কিন্তু তাঁর শিষ্যরা হাল ছাড়েনি।
ম্যাচ শেষে বাটলার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘চীন এশিয়ার অন্যতম সেরা দল, সম্ভবত সেরাই। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের হারানোর জন্য তাদের অভিনন্দন। তবে মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিল ওরা আমাদের ওপর চড়াও হবে, কিন্তু আমরা মাটি কামড়ে পড়েছিলাম। আমি মেয়েদের বলেছিলাম নিজেদের সেরাটা দিতে এবং স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে।’
বিরতির ঠিক আগে গোল খেয়ে হতাশ হলেও দ্বিতীয়ার্ধে দলের ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে গর্বিত কোচ। তিনি বলেন, ‘মেয়েদের পারফরম্যান্সে আমি খুব খুশি। প্রায় ৪০ মিনিট ওদের আটকে রাখা চাট্টিখানি কথা নয়। সব মিলিয়ে মেয়েরা এই জার্সি এবং দেশের সম্মান রক্ষা করেছে। এই ম্যাচটিই বলে দিচ্ছে আমরা কতটা উন্নতি করেছি।’
বাটলার তাঁর খেলার ধরনে বদল আনতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘অনেকে বলে আমরা হাই-লাইনে খেলি। আমি এটা বদলাব না। গত আড়াই বছরে আমরা শুধু সফল হইনি, অনেক উন্নত ফুটবল খেলছি।’
দলের অধিকাংশ ফুটবলারের গড় বয়স ১৯ বছর। এই তরুণ দল নিয়ে বাটলার আশাবাদী, ‘চীনের খেলোয়াড়দের বয়স ২৬-২৭ বছর, ওদের অভিজ্ঞতা অনেক। সেখানে আমার এই ১৯ বছরের দল যা খেলেছে, তা আগামীর জন্য একটা বড় বার্তা।’
আগামী শুক্রবার গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিপক্ষ সাবেক চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া। সেই ম্যাচ নিয়ে বাটলার বলেন, ‘ওরা অসাধারণ দল। খেলাটা কঠিন হবে জানি, তবে ফল যাই হোক, আমরা আমাদের খেলার ধরন পাল্টাব না।’
বাটলারের বিশ্বাস, এই টুর্নামেন্ট বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য বড় এক সুযোগ। তিনি বলেন, ‘আমি মেয়েদের বলেছি, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশ্বকে দেখাও যে বাংলাদেশে কত প্রতিভা আছে। তাদের শুধু একটু সুযোগ দরকার।’
