বিডি ডাইজেস্ট প্রতিবেদন
অগ্নিঝড়া একাত্তরের এদিনে পল্টন ময়দানে বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে বিশাল জনসভায় ইশতেহার পাঠ করেন ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ।
ঐতিহাসিক দলিলটির শিরোনাম ছিল, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ঘোষণা কর্মসূচী।
এতে স্বাধীন বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরার পাশাপাশি, বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীকার আন্দোলনের সর্বাধিনায়ক ঘোষণা করা হয়।
এই ইশতেহারেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সাত কোটি মানুষের জন্য স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের নাম দেয়া হয় বাংলাদেশ।
৩ মার্চের পল্টন ময়দানের এ জনসভায় বাঙালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন ,৭ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে বাঙালী জাতির উদ্দেশ্যে চূড়ান্ত দিক-নির্দেশনা দিবেন।
একইসাথে এ সভা থেকেই বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন।
সেদিনই সভা থেকে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের চার নেতা নূরে আলম সিদ্দিকী, শাজাহান সিরাজ, আ স ম আবদুর রব ও আবদুল কুদ্দুস মাখন স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেন।
এর আগেরদিন ২ মার্চ বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলের ৩১৩ নম্বর কক্ষে ইশতেহারের খসড়াটি রচিত করেন হল ছাত্রলীগের তৎকালীন সম্পাদক রায়হান ফেরদৌস মধু।
সেদিনই (২ মার্চ) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কলাভবন প্রাঙ্গণের বটতলায় প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন পতাকা উত্তোলন করেছিলেন ছাত্রলীগ নেতা ও ডাকসুর তৎকালীন ভিপি আ স ম আবদুর রব।
পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) স্বাধিকার ও মুক্তির আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছিল ১৯৭১ সালের মার্চের প্রথমদিন থেকে।
এর আগে ১ মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করার পর থেকে জনতার ক্ষোভ ফুঁসে উঠেছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সারা প্রদেশে হরতাল পালিত হয়।
৩ মার্চ জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হয়েছে, কারণ এটি ছিল জাতীয় পরিষদের প্রথম অধিবেশনের নির্ধারিত দিন।
সারা প্রদেশে অভূতপূর্ব হরতাল ও অসহযোগ আন্দোলনসকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সারা পূর্ব পাকিস্তানে সম্পূর্ণ হরতাল পালিত হয়েছে। অফিস-আদালত, কল-কারখানা, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দোকানপাট সবকিছু বন্ধ ছিল।
রাস্তায় জনতার মিছিল ও শোভাযাত্রা চলেছে। ঢাকায় পল্টন ময়দানে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পরবর্তীতে ২৩শে মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান ধানমন্ডির নিজ বাসভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন, যা স্বাধীনতার আন্দোলনকে আরও বেগবান করে।
২৫শে মার্চ নিরস্ত্র বাঙালীর উপরে গুলি বর্ষণের প্রতিবাদে ২৬ শে মার্চের প্রথম প্রহরে বাঙালীর স্বাধীনতার ডাক দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
