নিজস্ব প্রতিবেদক
আওয়ামীলীগ আমলের মেগাপ্রকল্প ও সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর এর থার্ড টার্মিনালের কাজ প্রায় ৯৯ শতাংশ সম্পন্ন হওয়ার পরে চালু না করে দীর্ঘদিন বন্ধ রাখার পেছনে যে সব অভিযোগ-অনুযোগ করে ছিল ইউনুস সরকারের বিশেষজ্ঞরা বিশেষত ফয়েজ তৈয়ব আর আশিক চৌধুরী, তা এখন মিথ্যা ও অযৌক্তিক প্রমাণিত হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে টার্মিনালের ডিজাইন ত্রুটি, কিছু অংশ ভাঙার প্রয়োজন, নেটওয়ার্ক কাভারেজের অভাবসহ বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে উদ্বোধন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এসব অভিযোগের কোনোটিই বাস্তবসম্মত ছিল না বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের দাবি ছিল, টার্মিনালের ভেতরে মোবাইল নেটওয়ার্ক কাভারেজ নেই। জরুরি ভিত্তিতে সিলিং ভেঙে নেটওয়ার্ক অবকাঠামো স্থাপন করতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ এবং কোটি কোটি টাকার ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করেছে। ফলে টার্মিনাল চালু করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এয়ারপোর্টে এ ধরনের নেটওয়ার্ক অবকাঠামো মূল নির্মাণের অংশ হিসেবে থাকে না। লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরের T2, T3, T4, T5 টার্মিনালগুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্কিং সিস্টেম (Distributed Antenna System বা DAS) মূল ভবন ডিজাইনের সময় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। বরং ভবন নির্মাণ শেষ হওয়ার পর Vodafone, O2, EE, Three-এর মতো অপারেটররা নিজেরাই “shared neutral host DAS” ইনস্টল করার জন্য স্পেস বরাদ্দ পেয়েছে।
একইভাবে, ঢাকার থার্ড টার্মিনালের মূল ডিজাইনে AODB, RMS, FIDS, BHS-এর মতো অপারেশনাল সিস্টেম চালানোর জন্য নির্দিষ্ট সার্ভার রুম ও আইটি কোর স্পেস রাখা হয়েছে। বড় এয়ারপোর্টগুলোতে সাধারণত ডিসট্রিবিউটেড সার্ভার রুম এবং কেন্দ্রীয় জাতীয় ডেটাবেস সেটআপ থাকে। APIS বা ইমিগ্রেশন ডেটা তো বাইরের সরকারি ইনফ্রাস্ট্রাকচারের সঙ্গে যুক্ত। ছোটখাটো কাজ যেমন রুমের নাম নির্ধারণ না করা বা নাট-বোল্ট লাগানো না হওয়াকে অজুহাত বানিয়ে দেড় বছর ধরে টার্মিনাল চালু না করা অন্তর্বর্তী সরকারের অযোগ্যতা ও অসদিচ্ছার প্রমাণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, আজ (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন অতিসত্বর থার্ড টার্মিনাল চালু করার জন্য। এ নির্দেশের ফলে টার্মিনালের দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা কাটিয়ে যাত্রী সেবা শুরু করার পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে অকারণে বন্ধ রাখা দেশের অর্থনীতি, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ও অযৌক্তিক অজুহাত দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প আটকে রাখা জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী। এখন নতুন সরকারের দ্রুত পদক্ষেপে থার্ড টার্মিনাল চালু হলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে এবং বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়বে।
