– হাসান মোরশেদ
স্বাধীনতা অর্জনের দুই মাস চার দিন পরই আসে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি। দেশ তখন যুদ্ধবিধ্বস্ত। অবকাঠামো ধ্বংসপ্রায়। আকাশে–বাতাসে তখনো লাশের গন্ধ। দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিদিনই সন্ধান মিলছিল অসংখ্য গণকবরের। মাটি খুঁড়ে বেরিয়ে আসছিল মানুষের হাড়, কঙ্কাল ও মাথার খুলি। এই বাস্তবতায় ১৯৭২ সালে যখন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম একুশে ফেব্রুয়ারি এল, ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ঐতিহাসিক শহীদ মিনারটি সে সময়ও ছিল মিনারবিহীন।
১৯৭২-এর ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে ছিল দেশের সর্বোচ্চ সরকারি ও বেসরকারি ভবনে পতাকা অর্ধনমিত রাখাসহ নানা কর্মসূচি।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ‘বাংলা পড়ুন, বাংলা লিখুন’ শিরোনামে বিলি করা হয় একটি ব্যতিক্রমী প্রচারপত্র। সাত দিনব্যাপী কর্মসূচির তৃতীয় দিন ছিল ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২, শুক্রবার। এদিন ছাত্রলীগের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে ‘বাংলা পড়ুন, বাংলা লিখুন’ প্রচারপত্রটি তুলে দেন ছাত্রলীগের তৎকালীন নেতৃবৃন্দ নূরে আলম সিদ্দিকী, শাজাহান সিরাজসহ অন্যরা।
পরদিন ১৯ ফেব্রুয়ারি দৈনিক বাংলা ও বাংলাদেশ অবজারভার পত্রিকায় ছবিসহ সেই খবরটি প্রকাশ করা হয়।
১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছিল সোমবার। যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ দিবস পালনে নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
৭২-এর ২১ফেব্রুয়ারি পালনের খবর সবিস্তারে পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ২৩ ফেব্রুয়ারি, বুধবার। এদিনের সংবাদপত্রগুলোর প্রথম পাতায় প্রধান প্রতিবেদন হিসেবে স্থান পেয়েছিল পালিত হওয়া শহীদ দিবসের সচিত্র খবর।
পূর্বদেশ পত্রিকার প্রথম পাতায় ছবিসহ আট কলামজুড়ে ছিল প্রধান প্রতিবেদন। শিরোনাম, ‘সারা দেশে নবতর চেতনায় জাতীয় শহীদ দিবস পালন: কেন্দ্রীয় মিনারের বেদীমূলে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর আহ্বান—চারটি মূলনীতির ওপর দেশকে গড়ে তুলুন।’
প্রতিবেদনে লেখা হয়, ‘…বঙ্গবন্ধু সকালে মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্যগণসহ আজিমপুরের গোরস্থানে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের মাজারে মালা অর্পণ করেন ও তাঁদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন। সেখান থেকে বঙ্গবন্ধু নগ্ন পদে হেঁটে শহীদ মিনারে আসেন এবং পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। সেখানে বক্তৃতাকালে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন, “শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে।”
