রোহিঙ্গা, মানবিক করিডর, মার্কিন ওয়ারহাউজ ও মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিসহ
সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যার্থ ড খলিলুর রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নতুন মন্ত্রিসভা গঠনে বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মার্কিন নাগরিক ড. খলিলুর রহমানকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, এবং তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এই নিয়োগের পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—রোহিঙ্গা সংকট, মানবিক করিডর প্রস্তাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিতে খলিলুর রহমানের ভূমিকা কতটা সফল ছিল? অনেকে মনে করছেন, এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তিনি ব্যর্থ হয়েছেন এবং মার্কিন স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
তারেক রহমান কেন এমন একজনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিলেন, তা নিয়ে সমালোচনা তীব্র হচ্ছে।
রোহিঙ্গা সংকটে হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের ভূমিকা:
২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস খলিলুর রহমানকে রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ নিয়োগ দেন। পরে তাকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাও করা হয়। কিন্তু তার দায়িত্বকালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কোনো অগ্রগতি দেখায়নি। বরং আলোচনায় উঠে এসেছে যে, মিয়ানমারের আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর নামে ‘মানবিক করিডর’ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা অনেকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন। সমালোচকরা বলছেন, এতে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানের চেয়ে আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ (বিশেষ করে মার্কিন ও পশ্চিমা প্রভাব) রক্ষা হয়েছে বেশি।
মানবিক করিডর প্রস্তাব:
খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে আলোচিত ‘মানবিক করিডর’ প্রস্তাব প্রথমে আরাকান আর্মিকে সহায়তার জন্য উত্থাপিত হলেও পরে এটিকে রোহিঙ্গা সহায়তার রূপ দেওয়া হয়। কিন্তু এতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা করা হয়েছে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, এই প্রস্তাব বাংলাদেশের স্বার্থের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক (বিশেষ করে মার্কিন) চাপ মেনে নেওয়ার ফল।
মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ ‘জলাঞ্জলি’ :
সম্প্রতি (ফেব্রুয়ারি ২০২৬) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যেখানে খলিলুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। চুক্তিতে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ২০% থেকে মাত্র ১% কমিয়ে ১৯% করা হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, এতে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা সামান্য সুবিধা পেলেও মার্কিন স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। চুক্তির শর্তাবলি বাংলাদেশের জন্য অসম প্রতিযোগিতামূলক বলে অভিযোগ উঠেছে, যা দেশীয় শিল্প ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে খলিলুর রহমানের মতো একজনকে (যিনি ইউনূস সরকারের ঘনিষ্ঠ এবং উপরোক্ত ক্ষেত্রগুলোতে ‘ব্যর্থ’ বলে অভিহিত) পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার সিদ্ধান্তকে অনেকে অস্বাভাবিক মনে করছেন। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে যে, এতে বিএনপির পররাষ্ট্রনীতিতে ধারাবাহিকতা বা আন্তর্জাতিক চাপ মেনে চলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ মনে করেন, এটি জুলাই বিপ্লবের চেতনা থেকে বিচ্যুতি বা মার্কিন প্রভাব বজায় রাখার কৌশল।খলিলুর রহমান নিজে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি, তবে সূত্রগুলো বলছে তিনি শিগগিরই শপথ নেবেন। এই নিয়োগ নতুন সরকারের প্রথম দিন থেকেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে।
