নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’র সামনে শহীদ ওসমান হাদির হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও জাতিসংঘের অধীনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে ৫ই ফেব্রুয়ারি থেকে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালনকারী ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর আজ (৬ জুলাই) পুলিশ নির্মম হামলা চালিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের নির্দেশে এই হামলায় লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের এলাকা ছাড়া করা হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
জানা যায়, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার ৫০ দিন অতিবাহিত হলেও বিচারে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সংগঠনটি বারবার দাবি জানিয়ে আসছে যে, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হোক। গতকাল রাত থেকেই যমুনার প্রবেশমুখে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা, পরিবারের সদস্যসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
অবস্থান চলাকালে আজ বাদ জুম্মা লোকসংখ্যা বাড়তে থাকলে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের নির্দেশে পুলিশ কঠোর অবস্থান নেয়।দুপুরের পর থেকে পুলিশ দফায় দফায় লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, এটি ছিল সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও দমনমূলক পদক্ষেপ। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের ওপর এমন নির্যাতন অন্তর্বর্তী সরকারের গণতান্ত্রিক চরিত্র নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাদি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে, এবং এই হামলা তাদের দাবিকে আরও জোরালো করেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের এই আচরণকে অনেকে ‘দমনপীড়নমূলক’ হিসেবে দেখছেন। হাদি হত্যা মামলায় ডিবি পুলিশ এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করলেও মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার বা বিচার প্রক্রিয়া দৃশ্যমান নয়। সরকারের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের দপ্তরকে তদন্তের প্রস্তাব দেওয়ার কথা বলা হলেও আন্দোলনকারীরা এতে সন্তুষ্ট নন।এই ঘটনা নির্বাচনের (১২ ফেব্রুয়ারি) আগ মুহূর্তে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা বলছেন, শহীদ হাদির বিচার না হলে সরকারের ব্যর্থতা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হবে। আহতদের চিকিৎসা চলছে, এবং সংগঠনটি পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে।
