গণভোটের সমালোচনায় রেহমান সোবহানঃ জুলাই মবের লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে কি এই অর্থনীতিবিদকে?

গণভোটের সমালোচনায় রেহমান সোবহানঃ জুলাই মবের লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে কি এই অর্থনীতিবিদকে?
শেয়ার করুন

বিডি ডাইজেস্ট ডেস্ক

ঢাকা, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬: বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান আসন্ন গণভোটকে ‘অস্পষ্ট’ ও ‘গুরুত্বহীন প্রস্তাব’ আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন।

তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই গণভোট আয়োজন করছে শুধুমাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও তার সহকর্মীদের খুশি করার জন্য।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট আয়োজিত এক সম্মেলনে রাষ্ট্র-সংস্কার নিয়ে আলোচনায় রেহমান সোবহান বলেন, “সরকার জুলাই জাতীয় সনদে যে সংস্কারের কথা বলছে, সাধারণ নাগরিকরা তার কিছুই জানেন না। রাষ্ট্র-সংস্কার নিয়ে একটা কাল্পনিক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, এবং তারপর অস্পষ্টভাবে গণভোটের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার ৩৮টি জটিল সংস্কার প্রস্তাবের ওপর একটি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রশ্ন রাখছে, অথচ সাধারণ মানুষ জানেই না সেগুলোর ভেতরে কী আছে। এটা আসলে একটা গুরুত্বহীন প্রস্তাব।”

প্রধান দুটি রাজনৈতিক জোট (বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন) থেকেও কাউকে এই ৩৮টি সংস্কার নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির কথা বলতে শোনা যায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রেহমান সোবহান সংস্কারকে একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের মেয়াদে সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব ছিল না। সংস্কারের প্রস্তাব লিখে প্রক্রিয়া শুরু করা যায়, কিন্তু তা আইন হিসেবে পাস করতে সংসদে বিতর্ক, এবং পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের বাস্তবায়ন দরকার।”

সরকারের ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণারও সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এর বদলে আমরা পাচ্ছি আলী রীয়াজ (গণভোট প্রচারের মুখ্য সমন্বয়ক), ব্যাংক কর্মচারী এবং কিছু অসহায় এনজিও কর্মীকে—যাদের দৌড়াতে বলা হচ্ছে মানুষকে ‘হ্যাঁ’ বলতে রাজি করানোর জন্য। এটা সম্পূর্ণ গুরুত্বহীন।”

তিনি সরাসরি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, “আমার সন্দেহ, অধ্যাপক ইউনূস মাহফুজ আলম ও তার সহকর্মীদের খুশি করতে চান। কারণ তারা উদ্বিগ্ন যেন পরিস্থিতি আগের মতো না ফিরে আসে। তাই একটা কসমেটিক এরেঞ্জমেন্ট (লোক দেখানো ব্যবস্থা) করা হয়েছে, যাতে মনে হয় সরকার কিছু করেছে।”

রেহমান সোবহান সতর্ক করে বলেন, “রূঢ় বাস্তবতা হলো, যতক্ষণ না আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি সরকার ক্ষমতায় বসে সংস্কার বাস্তবায়ন করছে এবং তার গুণমান মূল্যায়ন করা যাচ্ছে—ততক্ষণ সংস্কার ঘটছে না। লিখিত প্রস্তাবের কোনো মূল্য নেই বাস্তবায়ন না হলে। আমরা এই চক্রে আটকে গেছি, এবং এটা কোথায় গিয়ে ঠেকবে জানি না।”

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ব্যালটে চারটি বিষয় সংক্ষিপ্ত আকারে থাকলেও ভোটারদের আলাদা সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই—শুধু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বেছে নিতে হবে।

সম্মেলনে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক নাওমি হোসাইন। রেহমান সোবহানের এই তীব্র সমালোচনা গণভোট নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন—এমন সমালোচনার পর তিনি কি মব আক্রমণের শিকার হবেন, যেমনটা অনেকেই হচ্ছেন?

 

Visited 17 times, 1 visit(s) today