নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের অর্থনীতি যখন ইতিহাসের সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধির মুখোমুখি, রাজস্ব আদায়ে ব্যাপক পিছিয়ে পড়া এবং মূল্যস্ফীতি ৯% এর উপরে (সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী ডিসেম্বর ২০২৫-এ ৮.৪৯% থেকে বেড়ে চলেছে), তখন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব ও কর্তব্যের এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আংশিকভাবে কার্যকর করার দিকে এগোচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী জানুয়ারি থেকেই এই বেতন কাঠামোর কিছু অংশ (যেমন মূল বেতন বা ভাতার অংশ) বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের মধ্যেই সম্পন্ন করার পরিকল্পনা।
জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন ২১ জানুয়ারির মধ্যে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এর ভিত্তিতে সংশোধিত বাজেটে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা দিয়ে প্রায় দেড় কোটিরও বেশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হবে।
সূত্রের মতে, কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী আংশিক বাস্তবায়ন জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে পূর্ণাঙ্গ কার্যকর হতে পারে পরবর্তী অর্থবছরে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সিদ্ধান্ত পপুলিস্ট ধরনের এবং ড. ইউনুসের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই প্রণোদিত করা হচ্ছে। বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটে (প্রবৃদ্ধি ৪% এর কাছাকাছি, রাজস্ব সংগ্রহে ঘাটতি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি) এমন বড় আকারের বেতন বৃদ্ধি নির্বাচন-পরবর্তী নতুন সরকারের জন্য একটি বড় আর্থিক ফাঁদ তৈরি করতে পারে।
প্রায় দেড় কোটি সরকারি কর্মচারীর বেতন-ভাতা বাড়লে নিত্যপণ্য, বাড়িভাড়া, যানবাহন ভাড়া এবং অন্যান্য সেবার মূল্যও আরও বেড়ে যাবে, যা সাধারণ বেসরকারি নাগরিকদের উপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে।
এই ধরনের সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সীমিত এখতিয়ারের বাইরে বলে অনেকে মনে করছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের মূল দায়িত্ব স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের পথ সুগম করা, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক প্রভাব ফেলে এমন বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া নতুন সরকারের জন্য জটিলতা বাড়াবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই পরিস্থিতিতে সরকারি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি সামগ্রিক অর্থনীতিতে আরও অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে। নির্বাচনের (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) আগে এমন পদক্ষেপ দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
