জেলা প্রতিনিধি
জামায়াত নেতা ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াত ইসলামের মনোনীত প্রার্থী আমির হামজাকে ঝিনাইদহে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুর রহমান পপপু তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় জামায়াত নেতা আমির হামজাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো।
১৬ই জানুয়ারি, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে বিএনপি নেতা পপপু তার ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন।
তিনি স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘আমির হামজা তার বিকৃত বক্তব্য প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তাকে ঝিনাইদহে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো।’
পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। পোস্টের কমেন্টে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করেছেন।
পপপু বলেন, আরাফাত রহমান কোকো প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সন্তান। এক মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে এমন বিকৃত ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ইসলাম কখনোই সমর্থন করে না। তার এই বক্তব্য প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তাকে ঝিনাইদহে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, ওয়াজ মাহফিল ভরা মৌসুমে বিপুল অর্থের বিনিময়ে আমির হামজা ঝিনাইদহের ৬টি উপজেলা এবং জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অসংখ্য মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নেন। এক মাহফিলে তিনি আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃত করে প্রাণীর নামের সঙ্গে তুলনা করন। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
তবে আমির হামজা দাবি করেছেন, আলোচিত বক্তৃতাটি ২০২৩ সালের। এটা নিয়ে তিনি ফেসবুকে পোস্ট করা একটি ভিডিও বার্তায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
শুক্রবার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আব্দুল হাকিম মাসুদ এই মন্তব্যের জন্য জনসমক্ষে ক্ষমা না চাইলে আমির হামজাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার আল্টিমেটাম দেন।
রাতেই লিখিত প্রতিবাদ জানিয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আমির হামজা- আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃত করে একটি ইতর প্রাণীর সঙ্গে তুলনা করেন। এরূপ অশালীন ও কাণ্ডজ্ঞানহীন ভাষার ব্যবহার একজন ইসলামী বক্তার নিকট থেকে প্রত্যাশিত নয়। তার বক্তব্য উস্কানিমূলক ও চক্রান্তমূলক, যা আসন্ন নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করার শামিল।
অন্যদিকে, দুঃখ প্রকাশ করে ফেসবুকে দেওয়া ভিডিও বার্তায় আমির হামজা বলেন, কোকো সাহেবকে নিয়ে দেওয়া বক্তৃতাটি ছিল ২০২৩ সালের। আমি সেই সময়ই একটি বিষয় বোঝাতে গিয়ে উদাহরণটি দিয়ে ভুল করায় দুঃখ প্রকাশ করেছিলাম। এখন আবারও দুঃখ প্রকাশ করছি।
বক্তৃতাটি কাটাছেঁড়া করে ছড়ানো হয়েছে দাবি করে আমির হামজা আরও বলেন, পুরোনো বক্তব্য সামনে এনে নির্বাচনকালীন সময়ের বক্তব্য বলে চালানোর একটি ষড়যন্ত্র চলছে।
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের বিএনপির প্রার্থী জাকির হোসেন বলেন, জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
