বিশেষ প্রতিবেদক
আসন্ন গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে বিএনপির পক্ষ থেকে। দলটির শীর্ষ নেতারা বলছেন, শুধু সরকার নয়, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকেও চাপ দিয়ে ‘হ্যাঁ’ প্রচারণায় নামানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. ইউনুস নিজে থেকেই সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে মাঠে নামার নির্দেশনা দিয়েছেন। এর ফলে প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অনিচ্ছাসত্ত্বেও প্রচারণায় যুক্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ।
তবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে নেই বিএনপি। দলটি তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী ও প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালালেও গণভোট নিয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতে চায়। বিএনপির বক্তব্য—গণভোটে সরাসরি যুক্ত হওয়া তাদের রাজনৈতিক কৌশলের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
কিন্তু এখানেই থেমে নেই দ্বন্দ্ব। বিএনপি সূত্র বলছে, সরকার দলটিকে চাপ দিচ্ছে—জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণার পাশাপাশি যেন তারা সাধারণ মানুষকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানায়। এ প্রস্তাবে বিএনপি স্পষ্টভাবে না বলেছে।
বিএনপির এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ প্রচারণা মানেই একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তিকে সুবিধা দেওয়া। আমরা জানি, এতে বাস্তবে লাভবান হবে জামায়াত। বিএনপি সেই ফাঁদে পা দেবে না।
দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। বিএনপির নীতিনির্ধারক মহলের ধারণা, অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষ থাকার কথা থাকলেও গণভোট ইস্যুতে তারা একপাক্ষিক ভূমিকা নিচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
অন্যদিকে, সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, গণভোট একটি “জাতীয় সিদ্ধান্তের বিষয়” এবং জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সুফল বোঝানো সরকারের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। তবে বিএনপির অভিযোগ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো বক্তব্য দেয়নি অন্তর্বর্তী সরকার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে এই দ্বৈত প্রচারণার চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। একদিকে নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশ্ন, অন্যদিকে বড় রাজনৈতিক দলের অনীহা—সব মিলিয়ে সামনে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
