রিসেট বাটন চেপে মুক্তিযুদ্ধের সব ইতিহাস মুছে ফেলতে এতো তৎপর কেন ইউনূস সরকার?

রিসেট বাটন চেপে মুক্তিযুদ্ধের সব ইতিহাস মুছে ফেলতে এতো তৎপর কেন ইউনূস সরকার?
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রথম আলোর ১৩ই জানুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল — “১৫ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকারের ভিডিওগুলোর এখন কী হবে?”

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় (অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে) ‘বীরের কণ্ঠে বীরগাথা’ নামক প্রকল্পের আওতায় গৃহীত প্রায় ১৫ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার ভিডিও সাক্ষাৎকার বাতিল করে দিয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৪৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে আগের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রথম পর্যায়ে ১২ হাজার ৭৮৮টি সাক্ষাৎকারের জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যে ৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দাবি, ভিডিওগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের ‘সঠিক ইতিহাস’ তুলে ধরা হয়নি। এতে নানা অসংগতি রয়েছে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত অভিজ্ঞতা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী- ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে (ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড) আর কোনো অর্থ পরিশোধ করা হবে না। এই ভিডিও সাক্ষাৎকারগুলো সংরক্ষণ করা হবে না।

অন্যদিকে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এই সিদ্ধান্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা প্রশ্ন তুলেছেন — আগের ১২ হাজারেরও বেশি সাক্ষাৎকার যদি গ্রহণযোগ্য হয়ে থাকে, তাহলে হঠাৎ করে পরবর্তী প্রায় ১৫ হাজার সাক্ষাৎকার কীভাবে অগ্রহণযোগ্য হয়ে গেল?

প্রকল্পটি ২০২২ সালে শুরু হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল ৮০ হাজার মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকার, ইউটিউব কনটেন্ট ও ডকুমেন্টারি তৈরি। ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের পর নতুন অন্তর্বর্তী সরকার এসে প্রকল্পের বড় অংশকেই বাতিল করে দিয়েছে।

এই ঘটনা নিয়ে সমালোচকদের প্রশ্ন — রিসেট বাটন চেপে মুক্তিযুদ্ধের সব ইতিহাস মুছে ফেলতে এতো তৎপর কেন ইউনূস সরকার?

একদিকে সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, ইতিহাসের বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ। অন্যদিকে অনেকে এটাকে দেখছেন পূর্ববর্তী সরকারের উদ্যোগকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করার রাজনৈতিক প্রক্রিয়া হিসেবে। ফলে লাখো মুক্তিযোদ্ধার জীবন্ত কণ্ঠস্বর — যা ইতিহাসের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দলিল — চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে।

যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বারবার সামনে আনা হয়, সেই চেতনার সবচেয়ে প্রাণবন্ত সাক্ষ্য — মুক্তিযোদ্ধাদের নিজস্ব কথা — কেন এভাবে বাতিলের তালিকায় ফেলা হচ্ছে? এটা কি সত্যিই ইতিহাস সংরক্ষণ, নাকি ইতিহাসকে নতুন করে ‘এডিট’ করার অপচেষ্টা?

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যেন কোনো সরকারের ‘রিসেট বাটন’-এর অধীন না হয় — এটাই আজ সবচেয়ে বড় দাবি।

Visited 12 times, 1 visit(s) today