যুক্তরাষ্ট্র ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত: বাংলাদেশিদের ওপর কী প্রভাব পড়বে?

যুক্তরাষ্ট্র ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত: বাংলাদেশিদের ওপর কী প্রভাব পড়বে?
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (স্থায়ী বসবাসের ভিসা) প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য। এই তালিকায় বাংলাদেশও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের একটি অভ্যন্তরীণ মেমোর ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ২১শে জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের দাবি, এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ‘পাবলিক চার্জ’ (public charge) বিধানকে আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করার জন্য। অর্থাৎ, যেসব অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি সুবিধা বা কল্যাণমূলক সাহায্যের (welfare) ওপর নির্ভর করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের প্রবেশ রোধ করা।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের একটি পোস্টে বলা হয়েছে, “ফ্রিজ চালু থাকবে যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত হয় যে নতুন অভিবাসীরা আমেরিকান জনগণের সম্পদ থেকে অতিরিক্ত সুবিধা নেবেন না।”

এই স্থগিতাদেশ শুধুমাত্র ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের ভিসা) প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা যেমন পর্যটক (B1/B2), ব্যবসা, ছাত্র (F-1) বা কর্মী ভিসা (H-1B) এর ওপর এখনও কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে B1/B2 ভিসার জন্য ২১ জানুয়ারি থেকে ১৫,০০০ ডলার পর্যন্ত বন্ড (bond) জমা দেওয়ার নিয়ম চালু হয়েছে।

কোন কোন দেশ প্রভাবিত?

স্থগিতাদেশের তালিকায় রয়েছে: আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বার্বুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামাস, বাংলাদেশ, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া, ব্রাজিল, বার্মা (মিয়ানমার), কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, কোট ডি’ভোয়ার, কিউবা, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ডোমিনিকা, মিশর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান,

ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কির্গিজস্তান, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, ম্যাসিডোনিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনেগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, রিপাবলিক অব কঙ্গো, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাইনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, সাউথ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান এবং ইয়েমেন।

বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ওপর প্রভাব কী?

  • পরিবার-ভিত্তিক ভিসা (যেমন স্বামী/স্ত্রী, সন্তান, পিতা-মাতা-ভিত্তিক IR/CR ভিসা), কর্মসংস্থান-ভিত্তিক ভিসা (EB ক্যাটাগরি) এবং অন্যান্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্থগিত থাকবে। যারা ইতিমধ্যে ইন্টারভিউয়ের জন্য অপেক্ষা করছেন বা আবেদন জমা দিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রেও নতুন করে ভিসা ইস্যু হবে না।
  • এই স্থগিতাদেশ অনির্দিষ্টকালীন — কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়নি। স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলেছে, ভিসা প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা ও স্ক্রিনিং পদ্ধতি পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি চালু থাকবে।
  • বাংলাদেশ থেকে যারা গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষা করছেন (যেমন DV লটারি, ফ্যামিলি স্পনসরশিপ বা চাকরি-ভিত্তিক), তাদের স্বপ্ন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে গেল। অনেক পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, কারণ নতুন করে যোগদানের সুযোগ পাওয়া কঠিন হবে।
  • অর্থনৈতিক প্রভাবও পড়বে — যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা পরিবারকে নেওয়ার সুযোগ হারাবেন, যা রেমিট্যান্স ও সামাজিক কাঠামোতে প্রভাব ফেলতে পারে।
  • তবে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (পর্যটন, ব্যবসা, পড়াশোনা) এখনও খোলা আছে, যদিও B1/B2-এর জন্য বন্ডের নিয়ম চালু হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ। গত কয়েক মাসে ট্রাভেল ব্যান বাড়ানো, অ্যাসাইলাম প্রক্রিয়া স্থগিত এবং পাবলিক চার্জ নিয়ম কঠোর করার পর এটি আরেকটি বড় ধাক্কা।

বাংলাদেশি আবেদনকারীদের পরামর্শ: সরকারি ঘোষণা ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইট নিয়মিত চেক করুন। আইনজীবী বা অভিবাসন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এই স্থগিতাদেশ কতদিন চলবে, তা এখনও অজানা — তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের স্বপ্নকে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

Visited 19 times, 1 visit(s) today